eaibanglai
Homeএই বাংলায়মতুয়াদের পাশে থাকায় আশ্বাস দিতে মমতা বালা ঠাকুরের উপস্থিতিতে কাঁকসায় বিশাল সভা

মতুয়াদের পাশে থাকায় আশ্বাস দিতে মমতা বালা ঠাকুরের উপস্থিতিতে কাঁকসায় বিশাল সভা

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- এসআইআর-এর মাধ্যমে যাতে ওপার বাংলার মানুষদের নাগরিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে না হয় তার জন্য মতুয়া সম্প্রদায়কে আশ্বাস দিতে কাঁকসায় বিশাল সভা করল পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। যেখানে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার,বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ,রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহা সংঘের সংঘাধিপতি তথা রাজ্য সভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও ব্লকের নেতৃত্বরা।

সভা থেকে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা বালা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই বারবার জানিয়েছেন, যদি পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটাও বৈধ ভোটারের নাম কেটে যায়, তাহলে আগামী দিন দিল্লির বুকে গিয়ে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এর আগেও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নিঃস্বার্থ নাগরিকত্বের জন্য তারা বহুবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাদের দাবি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাই বৈধ ভোটারদের অধিকার ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের দাবিতে আগামীদিনেও তাদের আন্দোলন জারি থাকবে।”

অন্যদিকে এসআইআর নিয়ে কেন্দ্র তথা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “গুজরাটের দুই নেতা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ,এরা দুই জনই হলেন বাংলা বিরোধী। বাংলার যে সংস্কৃতি যে কৃষ্টি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙ্গালীদের ও বাংলার যে অবদান এগুলোকে নিয়ে তারা হিংসা করে। যার কারনে বাংলার মানুষের উপর নির্যাতনের যত রকম কলকাঠি তারা নাড়তে থাকে। এবং নির্যাতনের জন্য তারা নানান রকম কৌশল তৈরি করতে থাকে। শুভেন্দু অধিকারী এবং তাদের মতো লোকেরা হলেন এই গুজরাটি নেতাদের দালাল। কেউ বিধায়ক, আবার কেউ কেন্দ্রের মন্ত্রী হওয়ার জন্য বাংলার মানুষের ওপর নির্যাতন করতে পিছুপা হয় না। সব সময় নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের পেছনে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ঘুরে বেড়ায়। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিল বাংলা থেকে নাকি এক কোটি রোহিঙ্গার নাম বাতিল হবে। এখনো পর্যন্ত এস আই আর এর শুনানিতে প্রায় ৩১ লক্ষ মানুষের নাম উঠে এসেছে,যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় লিংক খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু একজনও রোহিঙ্গা এবং মুসলিমের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মানে শুভেন্দু অধিকারী পুরোপুরি ভাবে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে গিয়েছিলেন। মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র করেছিল তারা। ধর্মীয় বিভাজন,মানুষের মধ্যে একটা বিদ্বেষ তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েই শুভেন্দু অধিকারীরা মিথ্যা ভাষণ দিয়ে চলেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে সমস্ত গরিব মানুষ রয়েছেন যাদের তথ্য-প্রমানের অভাব আছে, স্কুলের কোন সার্টিফিকেট নেই, জন্মের কোন শংসাপত্র নেই, সেই সমস্ত মানুষ সমস্যায় পড়েছেন ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে। অন্যদিকে যে সমস্ত মানুষেরা ওপার বাংলা থেকে সমস্ত কিছু ত্যাগ করে এপার বাংলায় এসেছিলেন। তাদের মধ্যেও বহু গরিব মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেনা তারাও এই তালিকায় রয়েছে।”

এছাড়াও এদিনের সভা থেকে দলীয় নেতৃত্বরা মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার ও তাদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। এদিনের সভাতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments