নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- কখনো পেখম মেলে নাচ, কখনো গাছের ডালে উঠে রাজকীয় ভঙ্গ। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার গড় জঙ্গল সংলগ্ন সরস্বতীগঞ্জ গ্রামে বাড়ির আঙিনায়,গোয়ালে, মেঠো পথে এভাবেই দেখা মিলবে ময়ূর দলের। এক সময় এই ময়ূরদের আশ্রয়, খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রেখেছিল গ্রামবাসী। তাই এই সরস্বতীগঞ্জ এখন ওদের ঘর বাড়ি বললে কিছু কম বলা হবে না। তবে এখন ওরা জঙ্গলেই থাকে। মাঝে মাঝে গ্রামে এসে এক ঝলক দেখা দিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, পাতা ঝরার মরশুম এলেই জঙ্গলে আগুন লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়। কখনও আবার মানুষের অসাবধানতার কারণে বা দুষ্কৃতীদের লাগানো আগুনেও বনে দাবানলের সৃষ্টি হয়। আর তাতে সবথেকে বেশি বিপদে পড়ে বন্যপ্রাণ। এরকমই এক বিপদের দিনে চারটি ময়ূর ছুটে এসেছিল জঙ্গল লাগোয়া সরস্বতীগঞ্জ গ্রামে। আর তাদের স্নেহ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল গ্রামবাসী। মুড়ি, ছোলা, শস্য সহ নানারকম খাদ্য ও নিরাপত্তার নিঃশর্ত আশ্বাসও মিলেছিল। সেই থেকেই এই ছোট্ট গ্রামটিরই হয়ে গিয়েছিল ওই ময়ূরের দল। সেদিনের সেই আতঙ্ক ভুলে এখন বড় হয়ে উঠেছে ওরা। এখন তাই কখনো জঙ্গলের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় ওরা, আবার কখনো ভালোবাসার টানে গ্রামে ফিরে আসে গ্রামে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন মাঝে মধ্যেই ওরা আসে। পেখম মেলে কখনও নাচে, কখন ঘুরে বেরাও। ওদের দেখে ছোট থেকে বড় সকলে আনন্দ পায়। অন্যদিকে দুর্গাপুর বনাঞ্চলের বিট অফিসার কিশলয় মুখোপাধ্যায় বলেন,“জঙ্গল লাগোয়া এলাকাগুলিতে আমরা নিয়মিত সচেতনতা প্রচার চালাই। যাতে বন্যপ্রাণীর কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজরদারি থাকে। ময়ূরদেরও মাঝে মাঝে গ্রামে দেখা যায়, তবে বেশিরভাগ সময় তারা জঙ্গলে ফিরে যায়।”

















