eaibanglai
Homeএই বাংলায়কয়লাতে ছাই মেশানোর প্রতিবাদ, শ্রমিক নেতাকে বদলির নোটিশ

কয়লাতে ছাই মেশানোর প্রতিবাদ, শ্রমিক নেতাকে বদলির নোটিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ– কয়লার সঙ্গে ছাই মিশিয়ে ঘাটতি মেটানোর প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। কয়লা চুরি বন্ধের দাবী তুলেছিলেন। এবার তার খেসারত দিতে হল শ্রমিক নেতাকে। পলাশ পান্ডে নামে ইসিএলের ঝাঁঝরা কোলিয়ারীর ওই প্রতিবাদি শ্রমিক নেতাকে বদলির নোটিশ জারি হল। সোমবার ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর শোরগোল শুরু হয়েছে কোলিয়ারী শ্রমিক মহলে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৯ নভেম্বর ইসিএলের রাজমহল এরিয়া দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি হয় (বিজ্ঞপ্তি নং ECL/RJML/AGM/AHRM/3041)। যাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তাতে বলা হয়, ‘রাজমহল এলাকা এবং ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL) আর্থিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। যা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কয়লার চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে হয়েছে। কোম্পানিটি চরম আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। আর তাতেই দুঃশ্চিন্তায় পড়ে খনি শ্রমিকরা। প্রশ্ন ওঠে ইসিএলের কয়লার চহিদা কমে যাওয়ার কারন কি? তাহলে কি গুনগত মান কমেছে?

গত অর্থবছরে ইসিএলের ঝাঁঝরা প্রজেক্টে উৎপাদিত কয়লার প্রায় দেড় লক্ষ টন ঘাটতি হয় বলে অভিযোগ। এবং ঘাটতি মেটাতে ডিভিসির রঘুনাথপুর থেকে দেড় লক্ষ টন ছাই আনা হয়। ওই ছাই উৎপাদিত কয়লার সঙ্গে পরিমান মত মিশিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঝাঁঝরা এরিয়ার কিছু ইনক্লাইনে কোরিয়ারির ওই ছবি নজরে আসতেই শ্রমিক মহলে চাঞ্চল্য শুরু হয়। মুহুর্তে ওই ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক মাস আগে তৎকালিন আইএনটিটিইউসির কয়লা খাদান শ্রমিক কংগ্রেসের পক্ষে ঝাঁঝরা কোলিয়ারীর ইউনিট সেক্রেটারি পলাশ পান্ডে স্থানীয় লাউদোহা থানা ও ইসিএলের জিএমের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রশ্ন ওঠে, আঁটোসাটো নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কোলিয়ারির সাইডিং থেকে রমরমিয়ে কয়লা চুরি চক্র কি করে সক্রিয় হয়ে উঠে? অবাধে কি লুট হচ্ছে জাতীয় সম্পত্তি? যার দরুন রাজস্বের কি লোকসান হচ্ছে সরকারের?

অভিযোগ, প্রতিবাদে সরব হতেই পলাশবাবুকে না কি কেকেএসসি সংগঠন থেকে অপসারন করা হয়।
রাজ্যের শাসকদলের সিন্ডিকেট, ইসিএল ও স্থানীয় পুলিশের মদতে না কি চলছে কয়লা পাচারচক্র। পলাশ পান্ডের অভিযোগ, তিনি প্রতিবাদে সরব হওয়ায় সম্প্রতি তাকে ঝাঁঝরা কোলিয়ারী থেকে অন্যত্র বদলি করার নির্দেশিকা জারি করে ইসিএলের সদর দফতর। তাতে বলা হয়,’পালাশ পান্ডে (ফিটার) বর্তমানে ঝাঁঝরা প্রজেক্ট কোলিয়ারিতে কর্মরত। অবিলম্বে পনিয়াটি ওয়ার্কশপে তার বিদ্যমান পদে বদলি করা হচ্ছে। এই স্থানান্তরকে প্রশাসনিক স্থানান্তর হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে।’

তৎক্ষণাৎ বদলি প্রসঙ্গে পলাশবাবু বলেন,”উৎপাদন হচ্ছে। অথচ রাতের অন্ধকারে অবাধে কোলিয়ারি সাইডিং থেকে কয়লা চুরি যাচ্ছে। কাগজে কলমে থাকা উৎপাদনের পরিমানের ঘাটতি মেটাতেই কারচুপি করে কয়লার সাথে মেশানো হচ্ছে ছাই। প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। প্রচুর রাজস্ব লোকসান হচ্ছে সরকারের। ছাই মেশানোর ফলে ঝাঁঝরা প্রজেক্টের কয়লার গুনমানের বদনাম হচ্ছে। ফলস্বরুপ ইসিএলের কয়লার চাহিদা কমেছে। চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। তাই এই কয়লা চুরি বন্ধের দাবী জানিয়েছিলাম। তার খেসারত দিতে হল। বদলি করা হল আমাকে।”

খবর চাউর হতেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য নেতা জীতেন্দ্র তেওয়ারী বলেন, ” তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়কের প্রত্যক্ষ মদতে ও কিছু ইসিএল আধিকারিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির শ্রমিক নেতা পলাশ পাণ্ডেকে শাস্তির মুখে পড়তে হল। এই লড়াই কিন্তু থামবে না। এই লড়াই বাঁচার লড়াই, এই লড়াই ইসিএল-কে বাঁচানোর লড়াই।” যদিও এপ্রসঙ্গে ইসিএলের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির নেতাদের তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও পাগলের প্রলাপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই বদলির ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ইসিএল কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments