মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- নারী সৌন্দর্যের প্রতীক। সারা পৃথিবী জুড়ে নারীর সৌন্দর্যের আকর্ষণে মাতোয়ারা ৮ থেকে ৮০। পৃথিবী সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের সৌন্দর্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্যে একাধিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়ে থাকে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও বিগত এক দশক ধরে নারীর সৌন্দর্যের অনন্য রূপকে তুলে ধরার জন্য অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘মিস সাউথ বেঙ্গল’ প্রতিযোগিতা। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আশেপাশের রাজ্য সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১২৪ জন সুন্দরী নারী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপন হল এ বছরের ‘মিস সাউথ বেঙ্গল ২০২৬’ এর গ্রান্ড ফিনালে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে। এদিন কয়েকশো মানুষের উপস্থিতিতে গ্রান্ড ফিনালিতে অংশগ্রহণকারী সফল ১৫ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। তবে এ বছরে ‘মিস সাউথ বেঙ্গল ২০২৬’ অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল গৃহবধূদের বিউটি কনটেস্ট। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন পেশা ও কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত গৃহবধূ মহিলারা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এদিন সৃজনী প্রেক্ষাগৃহের অনুষ্ঠানের প্রথম ধাপে গৃহবধূদের অনন্য পরিবেশনে মুগ্ধ হন উপস্থিত সকল দর্শক। নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততামূলক কাজকর্মের মধ্যে থেকেও সংসারের খুঁটিনাটি সামলেও নিজেকে সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন বহু গৃহবধূ। এদিনের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহের ‘মিস সাউথ বেঙ্গল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এর মুখ্য জাজ ও নির্বাচক মন্ডলীর সভাপতি বিখ্যাত বলিউড তারকা স্বস্তিকা মুখার্জি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারপারসন কবি দত্ত, দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মন্ডলীর মুখ্য সদস্য শ্রীমতি অনিন্দিতা মুখার্জি সহ শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ।

‘মিস সাউথ বেঙ্গল ২০২৬’ এর মূল উদ্যোক্তা শ্রীমতি কল্পিতা দে শিকদার এদিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার করে এখন দ্বাদশ বর্ষে উদযাপিত হচ্ছে ‘মিস সাউথ বেঙ্গল ২০২৬’। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলার সমস্ত নারী যাতে নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক মানের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। নারী শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, তাদের ভেতরে রয়েছে একজন জননী, এক সুদক্ষ দেশ পরিচালক ও একজন সমাজ গড়ার কারিগর। তাই সকল নারীদের ভেতরের সৌন্দর্যকে আরো আলোয় আলোকিত করতে ও ফুটিয়ে তুলতে আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস। হাজার ব্যস্ততা মধ্যেও যে সকল ইচ্ছুক মহিলারা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সকলকে জানাই প্রীতি শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনগুলিতে প্রতিটি নারী যাতে সমাজের প্রতিবিম্ব হয়ে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস আমরা চালিয়ে যাব।”



















