সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আজ নীল ষষ্ঠী। সন্তানের মঙ্গল কামনায় ও সন্তান প্রাপ্তির আশায় মায়েরা এই ব্রত পালন করেন। এই ষষ্ঠীর ব্রত কথা রূপে একটি কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। প্রাচীনকালে একজন ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ দম্পতি বাস করতেন। তাঁরা ছিলেন ভীষণ ভাবে ঈশ্বর ভক্ত, ভগবানের আরাধনা করতে গিয়েই তাদের দিন কাটতো। কিন্তু তাঁদের সবকটি সন্তান এক এক করে মারা যায়। এরফলে তারা ঈশ্বরের থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন ও
মনের দুঃখে কাশীবাসী হন।
কাশীতে গিয়ে একদিন ব্রাহ্মণী গঙ্গা স্নান করে মণিকর্ণিকা ঘাটে বসে থাকাকালীন এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণীর দেখা পান। সেই বৃদ্ধা তাঁকে এসে জিজ্ঞেস করেন, এখানে বসে কী ভাবছো মা? ব্রাহ্মণী নিজের সন্তানদের অকালে হারানোর দুঃখের কথা ও তার পুজো ব্রতর সব ফল বিফলে যাওয়ার কথা জানালে ওই বৃদ্ধা বলেন, “বারব্রত, পুজো-অর্চনা কখনও বিফলে যায় না। ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখে ধর্মের পথে স্থির থাকলে তার ফল পাবেই। তা হ্যাঁ বাছা তুমি কখনও নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালন করেছো? চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন নির্জলা উপবাস রেখে মহাদেবের পুজো করতে হয় আর সন্ধেবেলা শিবের ঘরে বাতি জ্বালিয়ে জল খেতে হয়।”
বৃদ্ধার কথা শুনে ব্রাহ্মণী এই ব্রত পালন করতেই তাঁর আবার সন্তান লাভ হয়। আসলে ছদ্মবেশে থাকা ওই বৃদ্ধা ছিলেন স্বয়ং মা ষষ্ঠী। তিনি নিজেই তার পুজোর বিধান বলে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই সন্তানের কামনায় এবং মঙ্গল কামনায় নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালন করতে থাকেন মায়েরা।

















