এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

দুর্গাপূজায় আমিষ বিতর্ক: দুর্গাপুরে ‘বাগেশ্বর বাবা’-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

By Eaibanglai - September 10, 2026
— Advertisement —
Advertisement
দুর্গাপূজায় আমিষ বিতর্ক: দুর্গাপুরে ‘বাগেশ্বর বাবা’-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’-র মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। ওনার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানার সামনে একটি গণবিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবিতে জুতো মেরে এবং আগুন জ্বালিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি, ওনার বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানে তিনি দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষকে আমিষ আহার পরিহার করার আহ্বান জানান এবং মণ্ডপের আশেপাশে মাংস বিক্রি বন্ধের দাবি তোলেন। এমনকি উৎসবের দিনগুলিতে যারা আমিষ খাবার গ্রহণ করেন, তাঁদের 'পাখণ্ডী' (ভণ্ড বা অপবিত্র) বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এই বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই বাঙালি আবেগ ও সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন মহলে।

এদিন দুর্গাপুরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান। তাঁরা বলেন, “রামকৃষ্ণ পরমহংস, মা সারদা, স্বামী বিবেকানন্দ, বামাক্ষ্যাপা বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের এই পুণ্যভূমিতে এসে বহিরাগত একজন সাধুবাবা বাংলার মানুষকে 'পাখণ্ডী' বলে অপমান করে গেলেন। তিনি বাংলার ঐতিহ্য জানেন না। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর বা তারাপীঠের মতো পবিত্র ধর্মীয় পীঠস্থানেও মাকে আমিষ ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। অথচ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এসে তিনি আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন ।” শাসকদলের নেতাদেরও নিশানা করে তাঁরা বলেন, “যাঁরা ওই সাধুবাবার সঙ্গে অন্ন ভাগ করে খেলেন, তাঁরাও বাংলার এই অপমানের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ করতে পারলেন না।"

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বাংলা ও বাঙালির আত্মসম্মান রক্ষার্থেই তাঁদের এই আন্দোলন এবং এই ধরনের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে হবে না। 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement