নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- যানজটের চেনা যন্ত্রণামুক্ত করতে পানাগড় বাজারে বাইপাস ও ১৯ নং জাতীয় সড়কের ছয় লেনের সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু তারপরেও সুরাহা মেলেনি। বর্তমানে পানাগড় বাজারের মূল সড়ক ও ফুটপাতের একটি বড় অংশ জবরদখলকারীদের গ্রাসে চলে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছড়াচ্ছে এলাকায়। পানাগড় চৌমাথা থেকে আরওবি পর্যন্ত ফুটপাতের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার ওপর রনডিহা মোড় সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ওপরেই চলছে ভাঙা গাড়ি মেরামতের গ্যারেজের কাজ। আরওবি-এর কাছে দীর্ঘ পথ জুড়ে রয়েছে ভাঙা গাড়ির বেআইনি পার্কিং। কোথাও যন্ত্রাংশ, টায়ার আবার কোথাও বাড়ির ভাঙা আবর্জনার স্তূপ জমিয়ে রাখায় রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্কুলপড়ুয়া থেকে সাধারণ পথচলতি মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বাস চালকদের অভিযোগ, পানাগড় বাজারে গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উৎসবের মুখে পুরোদমে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী কড়া সমালোচনা করে বলেন, "বিজেপি বলেছিল ক্ষমতায় আসলে সাধারণ মানুষকে পরিত্রাণ দেবে। আইনের শাসন হবে। কিন্তু পাঁচ মাসেই বিজেপির ফানুস চুপসে গেল। পানাগড় বাজারে ফুটপাত দখল করে ভাঙা গাড়ির কাজ চললেও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ভয়ে প্রশাসন লেজ গুটিয়ে পালাচ্ছে। অথচ গরিব দোকানদারদের উচ্ছেদ করতে মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে পড়ছেন।"
পাল্টা জবাব দিয়ে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "আমাদের মাত্র চার মাসের সরকার। আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ফুটপাত পরিষ্কারের কাজ দ্রুত করা হবে। আপাতত খানাখন্দ ভরাটের কাজ চলছে এবং পানাগড় বাজারের রাস্তা আরও চওড়া করার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, কাঁকসা ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজোয় দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আগামী তিনদিন মাইকিং করে জবরদখলকারীদের সতর্ক করা হবে এবং ফুটপাত পরিস্কার রাখতে বলা হবে।