নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ– পানাগড়কাণ্ডে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। মঙ্গলবারই তিন সদস্যের সিআইডি দল কাঁকসা থানায় পৌঁছয় এবং দুটি গাড়ি পরিদর্শন করে। গোয়েন্দা আধিকারিকেরা গাড়ি দুটির ছবি তোলেন, গাড়ির ভেতরের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি পুলিশের কাছ থেকে খুঁটিনাটি জেনে নেন।
অন্যদিকে বুধবার সকালে কাঁকসা থানায় ডেকে পাঠানো হয় ঘটনার সময় গাড়িতে তরুণীর সঙ্গে থাকা বর্ধমানের বাসিন্দা মন্টু ঘোষ ও তার দাদাকে। দুপুরে তাদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। গোপন জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে অভিযুক্তদের গাড়িটি পানাগড়ের কাওয়াড়িপট্টির গাড়ি যন্ত্রাংশ কাটাইয়ের ব্যবসায়ী বাবলু যাদবের। সেই রাতে গাড়িটি বাবলুই চালাচ্ছিল বলে গতকালই জানিয়ে দেন এসপি কাঁকসা সুমন কুমার জয়সওয়াল। এদিন বাবলুর বাড়িতে খোঁজ খবর নিতে যায় পুলিশ। যদিও ঘটনার আড়াই দিন পরেও বাবুল ও তার সঙ্গীরা অধরা। দুর্ঘটনার পরই ভয়ে গাড়ি ফেলে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
যদিও গত সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সুনীল চৌধুরী ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন ইভটিজিং নয় বরং রেষারেষির জেরেই রবিবার রাতের দুর্ঘটনা ঘটে এবং তরুণীর মৃত্যু হয়। ফুটেজে দেখা যায় অভিযুক্তদের সাদা গাড়িটি আগে রয়েছে তার পিছনে দ্রুত গতিতে ছুটছে তরুণীর কালো গাড়ি। যদিও দুর্ঘটনার পরে তরুণীর গাড়ির চালক দাবি করেছিলেন অভিযুক্তরা কটুক্ত করার পাশাপাশি তাদের গাড়ি ধাওয়া করেছিল। তাদের হাত থেকে বাঁচতেই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যায় ও তরুণীর মৃত্যু হয়। তরুণীর মাও ইভটিজিংয়ের জেরে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত রবিবার গভীর রাতে পানাগড় বাজার এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় চনন্দনগরের বাসিন্দা বছর ২৬-এর তরুণী সুতন্দ্রা চট্যোপাধ্যায়ের। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে বিহারের গয়ায় যাচ্ছিলেন। অভিযোগ পানাগড়ে তাদের গাড়িটি ধাওয়া করে কিছু মদ্যপ যুবকের একটি দল। তাদের হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তরুণীর গাড়ি এবং তার মৃত্যু হয়।





