মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- নির্বাচনের আগে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন সব রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। কিন্তু যারা পরাজিত হন তারা তাদের প্রতিশ্রুতি গুলি পূরণ করার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেন না। কারণ বলে, ওইসব নেতা নেত্রীরা তাদের হাতে পর্যাপ্ত সরকারি ক্ষমতা না থাকা ও তাদের অসমর্থতার কথা বলে নিজেদের ফলাও করা প্রতিশ্রুতি না পূরণ করার জবাব হিসেবে প্রস্তুত রাখেন। আবার অন্যদিকে যেসব রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা সরকারি পক্ষের হয়ে নিজেদের আসন থেকে বিজয় লাভ করেন, তারা আবার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলি বিভিন্ন অজুহাতে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দেন। সম্ভবতই সাধারণ বাসিন্দারা তেমন ভাবে আর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করেন না। এটাই এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সব রাজনৈতিক দলের কোন কোন নেতা-নেত্রী তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যান সেটাও সত্যি। সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি গুলি দেন তার বেশির ভাগই পুরন হয় না তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ নাগরিকরা। কিন্তু সম্ভবত দুর্গাপুরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোন জ্বলন্ত সমস্যার কথা দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে নির্বাচনের প্রায় ১০ দিন আগেই তা পূরণ করার নজির এই প্রথম হল।
উল্লেখ্য ইস্পাত নগরী টাউনশিপের অন্যতম জলন্ত সমস্যা হল ডি এস পি ও এ এস পির থেকে অবসর নেওয়া কর্মীদেরকে দেওয়া কোয়াটার গুলিকে নিয়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবী সংগঠন ও নিজ উদ্যোগে স্থাপিত একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাতকর্মীরা সংগঠিত হয়ে তাদের নিজেদের বাসস্থান রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন দিনরাত। কিন্তু সুরাহা হয়নি তাদের প্রত্যাশা মতন। এদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর স্টিল টাউনশিপের এই জ্বলন্ত সমস্যার কথা দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাকি তুলে ধরতে, আসানসোল পোলো গ্রাউন্ডে হাজির হয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত কর্মীদের একাংশ। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের ওই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছিলেন বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
আজ দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বিদ্যাসাগর এভিনিউয়ে অবস্থিত ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী কার্যালয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি ও দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন ডি এস পি ও এ এস পির কারখানার সকল শ্রমিকের ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের দেওয়া কোয়াটার গুলি নিয়ে যে সমস্যা ছিল তা স্থায়ী সমাধান হয়ে গিয়েছে। এদিন তারা উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে জানান প্রধানমন্ত্রী নিজে ওই অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত কর্মীদের বাসস্থানের স্থায়ীকরণের ব্যাপার নিয়ে তার নিজস্ব দপ্তর থেকে মাত্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে দেশের ইস্পাত মন্ত্র ও স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাছে কোয়াটার সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার দ্রুত নিবারণ করার আদেশ জারি করেন। সেইমতো নাকি স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও দূর্গাপুর মিশ্র ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক পরিবার গুলির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বাসস্থান নবনীকরণ চুক্তি ও তারা যাতে ইচ্ছেমতো তাদের বাসস্থান নবরূপে নির্মাণ করতে পারেন তার আদেশ জারি করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করার সাথে সাথেই গোটা ইস্পাত নগরীতে আনন্দের জোয়ার বয়ে গিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক পরিবার গুলির মধ্যে। নিঃসন্দেহে যদি বিজেপির এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে ইস্পাত নগরী থেকে যে ভারতীয় জনতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবেন তা বলাই বাহুল্য। ইস্পাত নগরীর এক অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক পরিবারের নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক গৃহিণী জানান, “জীবনে প্রথমবার দেখলাম ভারতীয় জনতা পার্টি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগেই আমাদের সমস্যার সমাধান করে দিলেন। আমরা দুহাত ভরে ভারতীয় জনতা পার্টির সকল কর্মীবৃন্দকে আশীর্বাদ করছি, যাতে আগামী নির্বাচনে তারা জয়লাভ করে ইস্পাত নগরীকে আবার তার ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে দেবেন।

















