নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- আবারও বন দফতরের পুকুর জবরদখল করে বেআইনী ভরাট। আর ওই ভরাট করে প্রমোটারির অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ছড়িয়েছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে আদিবাসী সমাজে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান আদিবাসী গাঁওতা সংগঠন। গত শুক্রবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মান কাজ বন্ধ করল দুর্গাপুর আঞ্চলিক বন দফতর।
দুর্গাপুর পুরসভার ১নং ওয়ার্ডের কমলপুর গ্রাম। ভুমি রাজস্ব বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী ওই গ্রাম লাগোয়া রয়েছে বন বিভাগের প্রচুর জমি ও পুকুর। এরকমই একটি পুকুর রয়েছে কমলপুর মৌজারই। যার দাগ নম্বর ৪৮৮, খতিয়ান নম্বর ১০৬, প্রায় ৬৫ শতক পুকুরটি বন বিভাগের। রেকর্ডে রয়েছে ওই পুকুর বেআইনীভাবে দখল রয়েছে। অভিযোগ গত কয়েকদিন ধরে পুকুরটি মাটি দিয়ে অবাধে ভরাট চলছে। ভরাট করে গোটা জমি সমতল করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্লট করে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার ওই জমিতে চলছে নির্মান কাজ।
প্রশ্ন, বন দফতরের রেকর্ড থাকা জমির ওপর কিভাবে নির্মান কাজের অনুমতি পেল?
১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইনের সেকশন ৪ সি (Section 4c) এবং ১৯৮৪ সালের ইনল্যান্ড ফিসারি অ্যাক্ট (Inland Fisheries Act) অনুযায়ী যা সম্পুর্ন সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিবাদে সরব হয়েছে পশ্চিম বর্ধমান আদিবাসী গাঁওতা সংগঠন। এবং দুর্গাপুর বন দফতর ও মহকুমাশাসকের নিকট অভিযোগও জানিয়েছে ওই সংগঠনের সদস্যরা। তাদের দাবী,” দুর্গাপুর শহর লাগোয়া গ্রাম। গ্রীষ্মে জলসঙ্কটের মুখে পড়তে গ্রামবাসীকে। পুকুরটি এলাকার পরিবেশ রক্ষা এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি অবস্থায় জলের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা এটি প্রত্যাহিক কাজেও ব্যবহার করেন।”
সংগঠনের তরফে রঞ্জন মাড্ডি ও শান্ত মুর্মু প্রমুখ জানান,” বনদফতরের রেকর্ডের পুকুর হলেও, বর্তমানে পুকুটি বেআইনীভাবে দখল করে রেখেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালি। বিপুল বণিক, তন্ময় বণিক, মনোতোষ (গুন্ডা ), মৃদুল, প্রদীপ নামের কিছু প্রমোটার নাকি রাতের অন্ধকারে মাটি ফেলে ভরাট করেছেন। প্লট করে ওই জমি মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি চলছে। সরকারি জমি কিভাবে দখল করে রাতারাতি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, আমরা সম্পুর্ন অন্ধকারে। অরোণ্য আমাদের অধিকারি। সেই বন বিভাগের জমি গাছ লাগানোর বদলে প্রোমোটারি চলছে। এটা আইন বিরুদ্ধ। তাই প্রতিবাদ জানিয়েছি। বেআইনী পুকুর ভরাট বন্ধ হোক। অপরাধিদের আইনানুগ শাস্তি হোক।”
এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার ওই এলাকায় পৌঁছায় বন দফতরের আধিকারিকরা। বনভুমির ওপর বেআইনী নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে প্রোমোটার বিপুল বনিক জানান,” সম্পুর্ন মিথ্যা অভিযোগ। ওই জমি ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন।” যদিও এবিষয়ে দুর্গাপুর আঞ্চলিক বনাধিকারিক অনুপম খান বলেন,” ওখানে কিছু বনভুমি আছে। নির্মান কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”


















