দক্ষিণ বাংলা

অস্তিত্ব সংকটে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্প, মিলছে না আসর

By Eaibanglai - April 05, 2019
— Advertisement —
Advertisement

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ছৌ নাচের কথা উঠলেই সবার প্রথম আমাদের মাথায় আসে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের কথা। আভিজাত্যে এবং লোকপ্রিয়তার নিরিখে ছৌ শিল্পের জনপ্রিয়তা সংস্কৃতি প্রিয় মানুষ মাত্রই জানেন। কিন্তু এহেন ছৌ-শিল্পীরা, যারা বছরের পর বছর ধরে বাংলা তথা দেশ-বিদেশের মানুষকে তাদের ছৌ-নাচের মধ্যে দিয়ে বিনোদন করে আসছেন কেউ কী ভেবেছেন সেই শিল্পীরা কেমন আছেন? তাদের পরিবারগুলিই বা কেমন আছে? না দেখাটাই স্বাভাবিক। কারণ, আমরা বেশির ভাগ রাজ্যবাসী জানি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এইসমস্ত ছৌ-শিল্পী, বাঊল শিল্পী, যাত্রা শিল্পীদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই এইসমস্ত অনামী শিল্পীরা যেমন প্রচারের আলোয় এসেছিলেন তেমনি সরকারী তরফে মাসিক ভাতাও পেয়েছিলেন, এখনও পাচ্ছেন। কিন্তু তাসত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপন্ন এই ছৌশিল্পীরা। এর কারণ হিসেবে ছৌশিল্পীরা জানাচ্ছেন, সরকারী সহযোগীতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমনকি বিভিন্ন দূর্গাপুজোর সময় তাঁরা বড় মঞ্চ বা ব্যানার পাচ্ছেন সেকথা একশো ভাগ সত্য, কিন্তু সেইপর্যন্তই। এরপর সারা বছর তাঁরা ছৌ নাচের আসর বা আমরা যাকে বায়না বলে থাকি তা তাঁরা সেরকমভাবে পাচ্ছেন না। মূলত ছৌশিল্পীদের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের আসর করা। ফলে ছৌ-নাচের চাহিদা না থাকায় সারাবছর সেরকম আসর আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবী পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের। তাদের বক্তব্য, একে তো আয় হচ্ছে না, তারওপর ছৌ-নাচের জন্য প্রয়োজনীয় মুখোশ, পোশাক, সাজ-সজ্জার দাম দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। ফলে অনেকেই ছৌ-শিল্পের সামগ্রী কিনতে না পেরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। আর যাদের নাচের সামগ্রী রয়েছে তাঁরা সেই সরঞ্জাম তুলে রাখছেন আলমারির ওপর। ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ছে তাদের বংশপরম্পরায় চলে আসা ছৌ-শিল্পের সরঞ্জাম। কারণ উপায় নেই, পরিবারে সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে হলে রোজগার চাই, কিন্তু ছৌশিল্পের বাজারে মন্দা দেখা দেওয়ায় এবং সরকারি ভাতা বাবদ মাসিক মাত্র ১০০০ টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে তাদের। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে পুরুলিয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী এই ছৌশিল্পের প্রতি আগামী প্রজন্ম ক্রমে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা। আর তাদের আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে অচিরেই বাংলা তথা রাজ্য হারাতে পারে আরও এক প্রাচীন ঐতিহ্য ছৌ-শিল্প, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement