সন্তোষ কুমার মম্ডল,আসানসোলঃ- পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে এসে সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করা ও অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা গড়ার দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।
সোমবার রানিগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর ও জামুড়িয়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ, জিতেন্দ্র তেওয়ারি ও ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে রানিগঞ্জ বিধানসভার খান্দ্রা ফুটবল ময়দানে আয়োজিত বিজয় সংকল্প সভায় যোগ দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। আর এই সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। পাশাপাশি কয়লা, গরু ও বালি পাচার নিয়ে নিশানা করেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কেও।
এদিনের জনসভা থেকে সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে অমিত শাহ বলেন, “মমতা সরকারের পতন মানেই অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা। দিদি বা ভাইপো অনুপ্রবেশ রুখতে পারবেন না। এটা একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টিই পারবে। সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না রাজ্য। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সেই ৬০০ একর জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। ৫ মে বিকেল থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পাততাড়ি গুটাতে শুরু করবে। নাহলে তাদেরকে দেশ ছাড়া করা হবে। “
সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি নিয়ে সুর চড়িয়ে বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে ‘মাফিয়া রাজ’ বলে কটাক্ষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিন্ডিকেট রাজ আসলে “ভাইপোর সিন্ডিকেট”। এই সিন্ডিকেটের ভয়ে বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে। ৫ মে’ র পর এই সিন্ডিকেট বাহিনীকে উল্টো করে ঝোলানো হবে। দুর্নীতিকারী ও ভ্রষ্টাচারীদের জেলে পাঠানোর ব্যবসথা করা হবে।” খনির ধস কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ‘রানিগঞ্জ মাস্টার প্ল্যান’ কার্যকর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অন্যদিকে ভোটে মহিলাদের মন জয় করতে একাধিক প্রতিশ্রতির কথা শোনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হবে। ” আর এই টাকার যোগান নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে কটাক্ষ করে বলেন, “কালকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন তুলেছিলেন ‘টাকা কোথায় পাবেন?’ প্রশ্নের উত্তরে শাহর টিপ্পনি, “ভাইপোর দুর্নীতি করে পাওয়া অ্যাকাউন্টে যে বিপুল টাকা আছে, সেখান থেকেই মহিলাদের ৩ হাজার আর যুবকদের ৩ হাজার ভাতার টাকা দেওয়া হবে।”
ধর্মীয় মেরুকরণ ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বক্তব্যের শেষলগ্নে তিনি রাম মন্দির, সিএএ এবং ইউসিসি প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল করে বিধানসভা ভোটে লড়াই করা হুমায়ুন কবিরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাংলায় বাবরি মসজিদ করার চেষ্টা সফল হতে দেব না।” এদিন পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারির ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ বলেন, “গতবার অল্পের জন্য হয়নি। এবার জিতেন্দ্রকে জিতিয়ে পাঠান। ওকে অনেক বড় জায়গায় পাঠাবো।”
এদিনের সভা ঘিরে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা ছিলো চোখে পড়ার মতো।


















