eaibanglai
Homeএই বাংলায়রানিগঞ্জের সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থীর ছেলেকে সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

রানিগঞ্জের সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থীর ছেলেকে সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- শনিবার রানীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কালো বরণ মণ্ডলের সমর্থনে অন্ডালের খাঁন্দরা ফুটবল মাঠে জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সভা থেকেই প্রার্থীকে সতর্ক করলেন মুখ্য়মন্ত্রী।

প্রচারের তৃতীয় দিনে রানিগঞ্জের নির্বাচনী সভায় স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্যে উঠে আসে উন্নয়ন ও বিরোধীদের বঞ্চনার কথা। তবে এর পাশাপাশি এদিন তাঁকে নিজের দলের ভূল ভ্রান্তি নিয়েও সরব হতে শোনা যায়। এদিন সভার একেবারে শেষ জনসভায় উপস্থিত মানুষকে প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোটের জন্য আহ্বান জানানোর সময় নেত্রীর মুখে শোনা যায় প্রার্থীকে নিয়ে সর্তক বার্তা। তাঁকে বলতে শোনা যায় ‘‘হরেরামকে ভোট দেবেন, কিন্তু অনুরোধ করব, তোমার ছেলেকে বলো লাল বাতির গাড়ি নিয়ে না ঘুরতে। এখন থেকে সতর্ক করলাম। ’’

প্রসঙ্গত, জামুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংয়ের ছেলে প্রেমপাল সিং আসানসোল জেলা তৃণমূলের অন্যতম যুব সম্পাদক। সম্প্রতি তাঁর গাড়িতে লালবাতি লাগানো নিয়ে বির্তক তৈরি। অভিযোগ দলের তরফে তাকে বহুবার গাড়িতে লালবাতি লাগাতে বারণ করা হলেও তা কানে তোলেননি বিধায়ক পুত্র। তাই শনিবার নিজেই বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভরামঞ্চ থেকে সরাসরি প্রেমপাল সিংকে বার্তা দিলেন ।

অন্যদিকে এদিনের জনসভায় উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান তার সময়েই গড়ে উঠেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। রানীগঞ্জের ধসপ্রবণ এলাকায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ চলবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘রাজ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে এবং ২২ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ হয়েছে। রঘুনাথপুরে আরও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে রেশন ও পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ’’

উন্নয়নের পাশাপাশি বিরোধী বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তিনি। বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ বলনে, ‘‘নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং বাইরে থেকে অর্থ ও দুষ্কৃতী ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে। ৫০ থেকে ১০০ জন অফিসারকে অন্য রাজ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত হচ্ছে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিজেপির রাজ্যে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ। এনকাউন্টারের নামে মানুষ মারে। এখানে বাইরে থেকে ঢুকেছে। সাবধানে থাকবেন। নাকা চেকিং করবেন।আগের দিন রান্না করবেন। ইভিএম মেশিন যত ক্ষণ না যায়, পাহারা দেবেন। ভাইদের পাশে থাকবেন। গণনার দিন পর্যন্ত যাতে হ্যাক করতে না পারে।’’

এদিনের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী। তিনি রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সিউড়ি ও রঘুনাথগঞ্জে অশান্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘‘মিছিল থেকে বেরিয়ে দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,‌ দাঙ্গা করলেও কাউকে ছাড়া হবে না। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ভাঙা দোকান-বাড়ি পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments