নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। চলতি বছর এই পরীক্ষা অন্যবারের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন, কারণ ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে চালু হয়েছে সেমিস্টার পদ্ধতি। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে তিন ধরনের পরীক্ষা হবে—Semester-IV, Semester-III Supplementary এবং পুরনো পদ্ধতির (Old System) উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই তিন ধরনের পরীক্ষার্থী মিলিয়ে রাজ্যে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ৭৯,৩৪৭ জন এবং রাজ্যের ২৩টি জেলাতেই সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে ছাত্রীরা।
পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, Semester-IV পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, Semester-III Supplementary পরীক্ষার্থীদের দুপুর ১টা থেকে ২টা ১৫ মিনিট এবং পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
দুর্গাপুরঃ- এদিন সকাল থেকেই দুর্গাপুরের একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিধান নগর হাই স্কুল সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীরা সময়মতো পৌঁছে যায়। পরীক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ও উৎসাহ দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে পেন ও ফুল তুলে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিল পুলিশের কড়া পাহারা।

বাঁকুড়াঃ– চলতি বছরে জেলার বাঁকুড়া সদর, খাতড়া ও বিষ্ণুপুর এই তিন মহকুমার মোট ৮৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩২ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে । এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৯৫৮ জন ও ছাত্রী ১৬ হাজার ৩৩৫ জন।
বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের সাহসপুর ডিএনএস ইনস্টিটিউশন হাইস্কুলে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন হয়। এ বছর এই পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথেই ছাত্র-ছাত্রীদের এডমিট কার্ড, ট্রান্সপারেন্ট জলের বোতল, স্বচ্ছ পরীক্ষার বোর্ড-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের নির্ধারিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আজ উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা চলাকালীন এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়া হিন্দু হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী রিম্পা নন্দী নিজের নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্র টাউন গার্লস স্কুলে উপস্থিত হয়। পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ পরীক্ষার হলে অস্বাভাবিক রকমের কাঁপুনি শুরু হয় তার। বিষয়টি নজরে আসতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা দফতরকে জানানো হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তড়িঘড়ি ওই পরীক্ষার্থীকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করে শিক্ষা দফতর।

পুরুলিয়াঃ– পুরুলিয়া জেলার মানবাজারে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে কড়া নজরদারিতে চলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এদিন মানবাজার রাধামাধব হাইস্কুল ও বিশরী আঞ্চলিক পিডিজিএম হাইস্কুলে গেটের বাইরে দেখা যায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এবার পরীক্ষা পরিচালনায় কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে সংসদ। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল, স্মার্টওয়াচ, ক্যালকুলেটর বা কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নকল করতে গিয়ে ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে কড়া তল্লাশি চলবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের কনফিডেনশিয়াল রুমেও থাকবে নজরদারি।










