এই বাংলায়

রাজ্যের সিভিক ভলেন্টিয়াররা ক্রমে হয়ে উঠছে অসামাজিক

By Eaibanglai - April 03, 2019
— Advertisement —
Advertisement

এই বাংলায়, নিউজ ডেস্কঃ ইদানীং শহরের বুকে বিভিন্ন রাস্তার মোড় কিংবা পুলিশ চেক পয়েন্টগুলিতে সবসময় নজরে আসে নীল উর্দিধারী সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। যাদের প্রধান কাজ এবং দায়িত্ব হল শহরের ব্যস্ততম জায়গাগুলিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসার পর রাজ্যের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে এই সিভিক ভলেন্টিয়ার পদে লক্ষাধিক যুবককে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমতো রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিয়োগ করা হয় বর্তমান এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। কিন্তু সেই নিয়োগে কিছু ত্রুটির জন্যই বর্তমানে এই সিভিক ভলেন্টিয়াররা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায়ই সময় এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দাদাগিরির খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখা যায়। শুধু দাদাগিরি নয়, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু কী করে এইসমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়াররা এত সাহস পায়? কী করে দিনের পর দিন এত বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা? কারণ, অভিযোগ উঠেছে বর্তমানে থানাগুলিতে যেসমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা কর্তব্যরত অবস্থায় রয়েছেন তাদের মধ্যে বহু এমন আধিকারিক রয়েছেন যারা নিজেদের প্রত্যেক দিনের কাজের বেশিরভাগটাই এইসমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে হাসিল করিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে সেইসমস্ত যুবকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই না করেই তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক রাজনৈতিক নেতার হাত থাকায় বর্তমানে শহরের বেশিরভাগ সিভিক ভলেন্টিয়ারই আজ ধরাকে সরা বলে মনে করছে। সে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে টাকা আদায় হোক, সাধারণ নাগরিককে মারধর হোক কিংবা অন্য অসামাজিক কাজই হোক। যার আরও এক জ্বলন্ত উদাহরণ বুধবার দুর্গাপুরের বুকে ঘটে যাওয়া আরও এক অসামাজিক কাজ। না এবার হেলমেট দিয়ে কোনও বাইক আরোহীকে মারধর নয়, এবার এক নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের কুড়ুড়িয়া ডাঙ্গা এলাকার। জানা গেছে, মহম্মদ আজম নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার দুর্গাপুরের ফুলঝোড়ের উপসংশোধনাগারে কর্মরত। নির্যাতিত ওই নাবালকের পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার মহম্মদ আজম নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার ওই নাবালককে কাজের লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে। এরপর তাকে নিজের বাইকে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায় বলেও অভিযোগ। এরপর ওই নাবালক মঙ্গলবার বাড়ির সদস্যদের সব ঘটনা জানালে ওই দিন রাতে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নাবালকের পরিবার। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মহম্মদ আজমকে গ্রেফতার করে। বুধবার অভিযুক্তকে দুর্গাপুর আদালতে পেশ করা হয়। নির্যাতিত ওই নাবালকের মেডিক্যাল টেস্ট করা হবে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যারা শহরের আইন-শৃঙ্খলার রক্ষক তারাই যদি এই ধরণের ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে শহরবাসীর নিরাপত্তা কোথায়? বারবার এইধরনের ঘটনা রাজ্য জুড়ে ঘটে চললেও কেন এইসমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে না রাজ্য সরকার? সূত্রের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারদের হোমগার্ড পদে উন্নীত করা হবে। খুব ভালো কথা, এতে শহর বা রাজ্যবাসীর কোনওরকম মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের পালে যেভাবে হাওয়া লেগেছে সেই লাগাম না দিলে অদূর ভবিষ্যতে কোনও বড় ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় নেবে তো সরকার? উত্তরের অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement