নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরে মহাসমারোহে আয়োজিত হলো ভারতীয় জনতা মজদুর মঞ্চ (BJMM)-এর অষ্টম রাজ্য সম্মেলন। রবিবার কোকওভেন থানার অন্তর্গত সাধুডাঙ্গার দামোদর রিক্রেশন ক্লাবের হলে এই সাংগঠনিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজ্য স্তরের এই সম্মেলনে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের বহু সংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।
উক্ত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি স্বপন কুমার নন্দী এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ দুবে। এছাড়া অন্যান্য স্থানীয় নেতৃত্বও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
যদিও ভারতীয় জনতা মজদুর মঞ্চের এই সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে শ্রমিক মহলে অভিযোগ উঠছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম বঙ্গের বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন বিজেপির নীতির সাথে এক মনোভাবা সম্পন্ন একটাই শ্রমিক সংগঠন রয়েছে সেটা হল আরএসএস (RSS)-এর অনুগামী বিএম এস বা ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS)। তবে সেটিও বিজেপির নিজস্ব শাখা সংগঠন নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্তরের ঐতিহাসিক সংগঠন।
শ্রমিকদের এই বিভ্রান্তি নিয়ে বিজেএমএম-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ দুবেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "শ্রমিক সংগঠন করতে গেলে কোন রাজনৈতিক দলের রাজ্য সভাপতির কোন স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না। লেবার কমিশনের স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় যা তাদের রয়েছে।" তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন ভারতীয় মজদুর সংঘ নিজেদের স্বাধীন সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা সত্ত্বেও শাসক দলের বিভিন্ন নেতা বিধায়করা কীভাবে ওই সংগঠনের হয়ে কথা বলছেন। শুধু তাই নয় রাজ্যের বিগত শাসক দলের মতোই বিএমএস-ও তাদের সগঠনের সদস্যদের হেনস্থা করছে এমনকি বিজেএমএম-যোগ দিলে সেইসব শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, "কারখানার গেটে সাধারণ শ্রমিকদের থেকে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা করে সদস্য পদ বাবদ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি নিয়মবহির্ভূতভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের 'গেট পাস'।" এই ধরনের জোরজুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগামী দিনে তারা কোমর বেঁধে তীব্র প্রতিবাদে নামবেন বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
অন্যদিকে, এই সম্মেলন এবং জুলুমবাজির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS)-এর পশ্চিম বর্ধমান জেলার সাধারণ সম্পাদক মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, "আমি শুনেছি যে বিজেএমএম-এর অষ্টম রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে, কিন্তু প্রথম থেকে সপ্তম সম্মেলন কবে হয়েছিল, আমার জানা নেই। একেবারে অষ্টমে পা দিয়ে দিল এটা একেবারে আশ্চর্যের বিষয়। শ্রমিক সংগঠন যে কেউ করতে পারে তবে ভারতের সবচেয়ে বড়ো শ্রমিক সংগঠন বিএমএস। শ্রমিকদের বিভ্রান্ত বা বোকা বানানো যাবে না। বর্তমান সময়ে শ্রমিকরা জানে তাদের সমস্ত দাবি দাওয়া কেবল অরাজনৈতিক সংগঠন বিএমএস-ই পূরণ করতে পারে।"
এদিকে শিল্প শহরে একই রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে চলা দুই শ্রমিক সংগঠনের এই দ্বন্দ্ব নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে শ্রমিক মহলে।