এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

খনিগর্ভে আচমকা বিস্ফোরণ বিষাক্ত গ্যাস জল! অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ব্যাপক আতঙ্ক

By Eaibanglai - October 05, 2026
— Advertisement —
Advertisement
খনিগর্ভে আচমকা বিস্ফোরণ বিষাক্ত গ্যাস জল! অণ্ডালের সিঁদুলি কোলিয়ারিতে ব্যাপক আতঙ্ক

সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ-  ইসিএল -এর অণ্ডাল থানার অন্তর্গত সিঁদুলি কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিট এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল সোমবার। খনি গর্ভ থেকে আচমকাই হু হু করে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ও ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে, যার ঝাঁঝালো গন্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ আবাসন এলাকায়। একই সঙ্গে খনির ভেতরে ভূগর্ভস্থ জলস্তর ভেঙে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করায় এবং ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক রূপ নেয় যে, ধস ও বিষাক্ত গ্যাসের ভয়ে এলাকার বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন।

স্থানীয় ও খনি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে সিঁদুলি কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিটের কাছে প্রথমে তীব্র ধোঁয়া ও গ্যাসের মেঘ দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। খবর পেয়ে কোলিয়ারির এজেন্ট ও ম্যানেজার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানা যায়, খনির ভেতরে তীব্র বাতাস ও জলের শব্দের সাথে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে খনির মূল পাখা বন্ধ করতেই ভূগর্ভ থেকে ধোঁয়া, জল ও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এই চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মাঝেই খনির গভীরে আটকে পড়েন এক পাম্প খালাসি এবং এক মাইনিং সর্দার। তড়ঘড়ি ইসিএল-এর উদ্ধারকারী দল ও খনি শ্রমিকদের তৎপরতায়  ওই দু'জনকে অচৈতন্য ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের প্রভাবে তাঁরা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। উদ্ধার  হওয়া শ্রমিকদের তৎক্ষণাত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রকাশ ঠাকুর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, "সকালে যখন আমরা চা খেতে যাচ্ছিলাম, দেখি ৩ নম্বর পিটের সামনে প্রচুর মানুষের ভিড়। মাটির তলা থেকে হু হু করে ধোঁয়া আর গ্যাস বেরোচ্ছিল। এরপর যখন কোলিয়ারির অফিসাররা এসে পাখা বন্ধ করেন, তখন উপর থেকেই খনির ভেতর জলের তোড়ের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ভাগ্যিস নিচে থাকা পাম্প খালাসি ও মাইনিং সর্দারকে কোনো রকমে টেনে তোলা গেছে।"

এদিকে, এই ঘটনার পর ইসিএল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং খনির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খনির ভেতর কীভাবে আচমকা জল ঢুকল এবং গ্যাস ডিটেকশন ব্যবস্থা সচল ছিল কি না, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পর ইসিএলের একটি বিশেষ সুরক্ষা টিম খনি গর্ভের পরিবেশ পরীক্ষা করতে এবং এই বিপর্যয়ের আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে । বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও এলাকা জুড়ে এখনও থমথমে পরিস্থিতি ও গ্যাস আতঙ্ক বজায় রয়েছে। 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement