এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- উৎসবের মরশুমের শুরুতেই রাজ্যে থাবা বসাচ্ছে ডেঙ্গি। গত দুই সপ্তাহে নতুন করে প্রায় ২,৬০০ জন আক্রান্ত হওয়ার পর নবান্নের উদ্বেগ বাড়িয়েছে মশার কামড়। চলতি বছরে রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ৭,৩২০-তে পৌঁছে গিয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসকে ডেঙ্গির ‘হাই-রিস্ক’ বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য প্রশাসন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য, পুরসভা, এবং পুলিশসহ মোট ১৬টি দফতরের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনও স্তরেই যেন কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে।
রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংক্রমণের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে ১২টি এলাকাকে ডেঙ্গির ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আক্রান্তের নিরিখে এই মুহূর্তে শীর্ষে রয়েছে কলকাতা পুর এলাকা। কলকাতার বিশেষ করে ২, ৫, ১৬, ৭৭ এবং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি যে জেলাগুলির পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, সেগুলি হলো- মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে ১০৩ জন, নবদায় ৫১ জন এবং লালগোলায় ৩২ জন আক্রান্ত। নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে নতুন করে ৭৪ জন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।হাওড়া পুর এলাকায় ৪৪ জন আক্রান্ত, যার মধ্যে ১৫, ২১ এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ১ ও ২ ব্লক মিলিয়ে মোট ৬৮ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত। হুগলির পোলবায় ৩৮ জন এবং আসানসোল পুর এলাকায় ৩২ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খবর মিলেছে।
এবার ডেঙ্গি দমনে কেবল পুরসভা বা স্বাস্থ্য দফতর নয়, সরাসরি স্কুলপড়ুয়াদেরও সচেতনতা অভিযানে শামিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে ডেঙ্গি সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই) এই নির্দেশিকা দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেভাগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, জল জমতে না দেওয়া এবং দ্রুত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী শনাক্তকরণের ওপর জোর দিতে হবে। উৎসবের মরশুমে যাতে সাধারণ মানুষের আনন্দ মাটি না হয়, তার জন্য দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।