এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- রাজ্যে পুলিশের অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এখনও শূন্য। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০১। তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৭৪ জন। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৯২৭, যা মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৩৬.৬ শতাংশ। জনসংখ্যা ও পুলিশের অনুপাতের নিরিখেও এই ঘাটতি স্পষ্ট।
রাজ্যে বর্তমানে থানার সংখ্যা ৬৬৮। প্রায় ৯.৯৩ কোটি মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে গড়ে প্রতিটি থানার উপর প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার মানুষের দায়িত্ব বর্তাচ্ছে। অন্য দিকে, কর্মরত পুলিশ সদস্যের হিসাবে গড়ে একজন পুলিশকর্মীকে প্রায় ৯৪৩ জন নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে অপরাধ দমন, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত এবং জনসেবামূলক নানা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই বিপুল চাপ পুলিশের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতেই পুলিশে দ্রুত নিয়োগের উপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের সংখ্যা জাতীয় গড়ের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বর্তমান হারকেও ছাড়িয়ে যাবে। তাঁর দাবি, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশ রয়েছেন ১০৫ জন। জাতীয় গড় ১৫৫ এবং উত্তরপ্রদেশে প্রায় ২০০।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুলিশের ৩০০ জন সাব-ইনস্পেক্টর ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। পাশাপাশি, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের আরও ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। এ ছাড়াও, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশ ক্লার্ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু সংখ্যাবৃদ্ধি নয়, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশবাহিনী গড়ে তোলাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশিক্ষিত পুলিশবাহিনীর কোনও বিকল্প নেই। সেই কারণেই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি পরিকাঠামো এবং পুলিশকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা গেলে থানাগুলির উপর কর্মভার কমবে, তদন্তের গতি বাড়বে এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দ্রুত নিয়োগ এবং প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন গতি আনবে বলেই আশা করা হচ্ছে।