এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

'জামাইবাবুর' হাসপাতালে আবারও মৃত্যু চিকিৎসাধীন রোগীর

By Eaibanglai - July 26, 2026
— Advertisement —
Advertisement
'জামাইবাবুর' হাসপাতালে আবারও মৃত্যু চিকিৎসাধীন রোগীর

মনোজ  সিংহ , দুর্গাপুরঃ- কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি, সরকারি জমি দখল, অবৈধ প্রমোটারি ব্যবসা, বিনা ফায়ার লাইসেন্সে হাসপাতাল, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ঠিকাদার ও ২০২৬ এর  নির্বাচনের দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর অত্যন্ত কাছের লোক ও ইলেকশনের সময় ফান্ড কালেকশনের দায়িত্বে থাকা সেই জামাইবাবুর বেসরকারি হাসপাতালে আবারও মৃত্যু চিকিৎসাধীন রোগীর।

চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের 'লাইফ কেয়ার হসপিটাল' নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ঘটনাকে ঘিরে রবিবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন মৃতের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে রাজকুমার মণ্ডল (৫৮)-এর। তিনি দুর্গাপুরের বেনাচিতির বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দাবি, চলতি মাসের ২৩ তারিখ চিকিৎসক রোগীকে ছুটি লিখে দিলেও স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছাড়েনি।  এরপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোগীর কক্ষে ঝাঁঝালো স্প্রে করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দু'দিন পর,আজ রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।     

এই লাইফ কেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বিনা 'ফায়ার লাইসেন্স'এ চলছে এই হাসপাতাল। সেই 'জামাইবাবু'র বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি লাইফ কেয়ার হসপিটাল নামক হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ফুলঝড়, স্টিল পার্ক, কালিগঞ্জ, হরি বাজার ও তত সহ বেনাচিতির বেশ কয়েকটি জায়গায় সরকারি জায়গা দখল করে প্রোমোটারি করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করার অভিযোগ রয়েছে এই 'জামাইবাবু'র বিরুদ্ধে।

এই প্রথম নয় এই হাসপাতলে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় ও চিকিৎসার গাফিলতির দরুন মারা গিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। সব থেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, গত ২০২৪ সালের জুন মাসে এক বারো বছরের বালককে ভুল চিকিৎসায় মেরে ৫০ লক্ষ টাকা গচ্চা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তখনও কোন এক অজানা কারণে শেষ অবধি ১০ লক্ষ টাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এই হাসপাতালের জন্ম লগ্ন থেকে মানুষ 'খুন' করা এক রীতি হিসেবে প্রচলন হয়ে চলেছে। "চ্যানেল এই বাংলায়" সেই দিনও কড়া সংবাদ পরিবেশন করে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সাধারণ শিল্পাঞ্চলবাসিকে অবগত করেছিল। রইল সেই দিনকার খবরের একটি স্ক্রিনশট পাঠকদের জন্যঃ-

ওই 'জামাইবাবুর' প্রভাব সেদিনও ছিল বহাল তবিয়তে আজকের মতন। সেদিনও পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন নি। আজও ওই 'জামাইবাবুর' হাসপাতালের যাতে কোন ক্ষতি না হয় তার জন্য সচেষ্ট হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা বলে অভিযোগ।

গত লোকসভা নির্বাচনের পরে যখন দুর্গাপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ দুর্গাপুরে আসেন তখন তার সরকারি গাড়ি আসার আগে তার লোকসভা এলাকায় চলাফেরার সুবিধার জন্য একটি বিলাসবহুল কালো রঙের এক্সইউভি গাড়ি দিয়েছিলেন এই 'জামাইবাবু'বলে অভিযোগ।  স্বভাবতই যখন সাংসদ ওই গাড়িটি ব্যবহার করেন তখন সেই গাড়ির মাথার উপরে নীল বাতি নিশ্চয়ই থাকবে। সেই মতো সেই কালো রংয়ের এক্সিউভিতেও লাগানো ছিল নীল বাতি। কিন্তু অভিযোগ সাংসদ যখন দুর্গাপুরে থাকতেন না, তখন তার অনুপস্থিতিতে ওই 'জামাইবাবু' সাংসদকে দেওয়া তার নীল বাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে পরিবার ও নিজের প্রমোটারি ব্যবসার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, জমি মালিক ও সাধারণ বাসিন্দাদের চমকানোর কাজ করতেন বলে অভিযোগ।  

এই 'জামাইবাবু'কে ২০২৬ এর  নির্বাচনের আগে জনসমক্ষে প্রায়ই বলতে শোনা যতো এডিডিএ অফিসটা নাকি তার শ্বশুরবাড়ি। যেকোনো রকম দুর্নীতি বা ফাইল বদল করার কাজ কেউ কখনোই আটকাতে পারবে না তিনি চাইলে বলে এতদিন জাহির করে এসেছেন। এইবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই 'জামাইবাবু'র  ওপর নাকি দায়িত্ব ছিল ভোটের দিনে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর কাছের লোকদের জন্য মদ ও মাংস যোগান দেওয়ার কাজ। এই কাজের জন্যই নাকি বেশ কয়েক লক্ষ টাকার দেশি ও বিদেশী মদ নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই জোগাড় করে রেখেছিলেন এই 'জামাইবাবু'।

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের সাধারণ বাড়ির এক সন্তান হয়ে আজ এই 'জামাইবাবু' কি করে এবং কার সাহায্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেছেন শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা। সূত্র মারফত এও জানা যায়, ওই 'জামাইবাবু' নাকি দুর্গাপুরের এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতাকে সেটিং করে প্রথমত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় তার ঠিকাদারিতে গুচ্ছগুচ্ছ বে-নিয়মগুলিকে ঠিক করার জন্য 'প্রটেকশন মানি'দিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ। এখনও শিল্পাঞ্চলের বুকে তার সকল রকম বেআইনি ব্যবসার ছাড়পত্রের জন্য প্রতিমাসেই মোটা অংকের টাকা হস্তান্তর করছেন এই 'জামাইবাবু' শিল্পাঞ্চলের এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতাকে বলে অভিযোগ।

সম্ভবত সেই জন্যেই আজ চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যু ও পরিবার পরিজনের বিক্ষোভ হওয়া সত্বেও কোন এক অজানা কারণে সকল অভিযোগ খুবই সহজে সবকিছু আশ্চর্যজনক ভাবে মিটমাট হয়ে যায় কোনরকম পুলিশি মামলা ছাড়াই। 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement