এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

পুলিশের সাথে হোটেল-লজ মালিকদের বৈঠক, আমন্ত্রণহীন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম

By Eaibanglai - July 27, 2026
— Advertisement —
Advertisement
পুলিশের সাথে হোটেল-লজ মালিকদের বৈঠক, আমন্ত্রণহীন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে গত ২৫শে জুলাই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে এক বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় এক সচেতনতামূলক শিবির ও আলোচনা সভা। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অবস্থিত সকল হোটেল-লজ ও গেস্ট হাউসের মালিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এই সচেতনতামূলক শিবির ও আলোচনা সভায়। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার ডক্টর প্রণব কুমার। কম বয়সী ছেলে মেয়েরা যাতে হোটেলে লজে অবৈধভাবে সময় কাটাতে না পারে এবং যৌনতায় লিপ্ত হতে না পারে সেই বিষয়ে জেলার সমস্ত হোটেল লজ গেস্ট হাউস সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত ক্ষেত্রগুলিকে সতর্ক করল পুলিশ। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আওতাধীন এলাকার প্রায় ২৫০ টি লজ হোটেল, গেস্টহাউস ইত্যাদির প্রতিনিধিদের নিয়ে দুর্গাপুরে এই বিশেষ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।  

এই সচেতনতামূলক শিবির ও আলোচনা সভায় পকসো বা প্রটেকশন অফ চিল্ড্রেন ফ্রম সেক্সসুয়াল অফেন্সেস-২০১২'র বিভিন্ন বিধান নিয়ে আলোচনা করেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ডক্টর প্রণব কুমার। "শিশুদের যৌন নির্যাতন শোষণ ও পাচারের হাত থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে এইসব আতিথেয়তা ক্ষেত্রগুলির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে জেলার সমস্ত হোটেল লজ গেস্ট হাউস সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত ক্ষেত্রগুলির বলে তিনি মন্তব্য করেন।" অনেক ক্ষেত্রেই আত্মীয় বা বন্ধু পরিচয় দিয়ে শিশুদের হোটেল লজে তোলা হয়। তা যাতে কোনভাবেই না ঘটে সেই জন্য সন্দেহজনক কোন পরিস্থিতি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেন। এছাড়াও হোটেল লজ গুলির ফায়ার পারমিশন সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন না হলেও তাদেরকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল এই অনুমোদন গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এদিন ওই সচেতনতামূলক শিবির ও আলোচনা সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় হোটেল লজ গুলিতে অবশ্যই মহিলা কর্মী রাখতে হবে। বিবাহিত না হলেও প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ হোটেল বুক করতে চাইলে আইনত বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই, তবে এক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার খাতিরে হোটেল তার নিজস্ব বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারে। কোন ব্যক্তি বা মহিলা হোটেলের রুমে প্রবেশ করার পর তার সাথে একাধিকজন একাধিকবার দেখা করতে আসেন, সেই সব ক্ষেত্রে যারা দেখা করতে আসছেন তাদের পরিচিতি হোটেলের রেজিস্টারে অতি অবশ্যই প্রত্যেক ভিজিটারকে তাদের পূর্ণ নথি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করাতে হবে।পুলিশের পক্ষ থেকে বারংবার সতর্ক করা হয় যাতে কোনোভাবেই কোন পরিষেবা প্রদানকারী অনৈতিক কাজ না করেন। বিশেষত, কম বয়সী ছেলে মেয়েদের হোটেলে না রাখা, সন্দেহজনক কোন ব্যক্তি হোটেলে থাকলে তার সম্বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে সংবাদ দেওয়া এবং কোনরকম দুষ্কর্মের আঁচ পেলে তা প্রশাসনকে জানানোর বিষয়টি এদিনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের কোন সংবাদ মাধ্যমকে এদিন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে আধিকারিক ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এদিনের এই সচেতনতামূলক ও আলোচনা সভায় যে সকল হোটেল লজ ও গেস্ট হাউসের মালিকেরা এসেছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেরই হোটেলে অবৈধভাবে কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের সময় কাটাতে ও যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বিধাননগর ও সিটি সেন্টারে একাধিক হোটেলে তাদের চিরাচরিত হোটেল রুমগুলি ছাড়াও ছাদে বা হোটেলের অন্য কোন জায়গায় টিনের ছাধন দিয়ে ছোট ছোট ঘুপছি ঘর তৈরি করা রয়েছে। যেখানে প্রতি ঘন্টা হিসেবে কম বয়সী ছেলে-মেয়েদেরকে যৌন তৃপ্ত জন্য ভাড়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বাসিন্দারা আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন কেন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি হোটেলে কতগুলি রুম রয়েছে ও সেই হোটেলগুলিতে পুলিশের বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বা তদন্তের স্বার্থে কেন দুর্গাপুরের সমস্ত হোটেলগুলির হাল হকিকত পুলিশ আধিকারিকরা নিজের চোখে দেখে আসছেন না? যদিও একাধিক হোটেল মালিক প্রশাসনের যাবতীয় নিয়মবিধি মেনে চলার বিষয়ে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement