eaibanglai
Homeএই বাংলায়দুই অসহায় খুদের পাশে দাঁড়ানোর আর্তি

দুই অসহায় খুদের পাশে দাঁড়ানোর আর্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ– এক জোড়া অসহায় খুদে চোখ যেন সব সময় খুঁজে চলেছে বাবা মাকে। আর তাকে সান্ত্বনা দিতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বৃদ্ধা ঠাকুমা, “বেড়াতে গেছে , ফিরে আসবে, কাঁদিস না বাবা।” ছোট ভাইয়ের নাবালিকা বড় দিদি জানে এ কত বড় মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, তাদের বাবা-মা আসবেননা আর কোনোদিন।

ওরা অনাথ দুই ভাই বোন, বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা জনপ্রিয় দুই বাউল শিল্পী দম্পতি শুভজিৎ দাস ও সুশীলা দাসের নাবালিকা কন্যা ও শিশু পুত্র। শিল্পী স্ত্রী এক ছেলে মেয়ে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে দিব্যি সুখের সংসার ছিল বাউল শিল্পী শুভজিৎ দাসের। কিন্তু বছর দেড়েক আগে হঠাৎ এই পরিবারে নেমে আসে বিপর্যয়। স্ত্রীকে আগুনের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে নিজেও অগ্নিদগ্ধ হন শুভজিৎ এবং একই সঙ্গে মৃত্যু হয় শিল্পী দম্পতির। হঠাৎ যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের দুই খুদের ওপর।

মা বাবা হারা নাবালিকা দিদি বাবা-মার আদর যত্ন দিয়ে আঁকড়ে ধরে ছোট্ট ভাইকে। তবু মাঝেমধ্যেই মন যে কেমন করে বাবা মার জন্য, আর তখনই জনপ্রিয় শিল্পী মা-বাবার গানের ভিডিও চালিয়ে ঘরের জানলা দরজা বন্ধ করে সবার অলক্ষে চোখের জল ফেলে বুকের ভার হাল্কা করার চেষ্টা করে দুই ভাই বোন। একে তো পিতৃ মাতৃহীন অনাথ তার উপর চরম দারিদ্রতা। দুইয়ের জাঁতাকলে যেন পিষছে খুদে দুই জীবন।

আপাতত বিধবা বৃদ্ধা ঠাকুমার আশ্রয়েই দিন কাটছে দিদি ও ভাইয়ের। রেশনে পাওয়া চাল আর বিধবা ভাতার হাজার টাকা দিয়ে কোনমতে অনটনের সংসার চলছে ভাগ্যহীন তিনটি প্রাণীর। অভাবের সংসারে নাতি-নাতনীর মুখে ভালো-মন্দ খাবার তুলে দিতে পারেন না, যন্ত্রণা কষ্ট ও চরম দারিদ্র্যতার সঙ্গে করে লড়াই করে চলা বৃদ্ধা সে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তবুও তো ঠাকুমা আছে বলে দুবেলা খাবার জুটছে, ঠাকুমা চলে গেলে এই বিশাল পৃথিবীতে বড্ড একা হয়ে যাবে ওরা। কী করে চলবে দুটি জীবন? জানা নেই কারো। বৃদ্ধা ঠাকুমার গলাতেও সেই আক্ষেপ, “যতদিন আছি ততদিন তবুও কোনমতে খাইয়ে পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো। কিন্তু আমি চলে গেলে এদের কিভাবে জীবন চলবে? আর কি খেয়েই বা বাঁচবে।”

পৃথিবীতে এরকম অসহায় কতো মানুষ আছে হয়তো! সবার কথা আমরা জানি না, জানা সম্ভবও নয়। তা বলে এই দুটি খুদে প্রাণের জন্য কি কেউ এগিয়ে আসবেন না, বাড়িয়ে দেবেন না সাহায্য়ের হাত? কেউ এগিয়ে অন্তত প্রমাণ করবে না, পৃথিবীতে এখনো হৃদয়বান ব্যক্তি হারিয়ে যায়নি, আবেগ হারিয়ে ফেলেনি মানুষ, বিসর্জন দেয়নি মনুষ্যত্ব ও বিবেক।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments