নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- শীতের আমেজ গায়ে মেখে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ এর প্রাঙ্গনে সংগীতের উন্মাদনায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও পলক মুচ্ছলের সু-সঙ্গীতের জাদুতে আত্মহারা দুর্গাপুর। গত শুক্রবার ৫ই ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে শুরু হয়েছে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫। ইতিমধ্যেই টলিউড-বলিউড এর বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা শিল্পী দুর্গাপুর উৎসবের মূল মঞ্চ উপস্থিতিতে উজ্জ্বল হয়েছে। বহুদিন পর গত সোমবার সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ডাক্তার তথা বলিউডের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী পালাক মুচ্ছালের সঙ্গীতা অনুষ্ঠান দেখতে দুর্গাপুর উৎসব মঞ্চে।
কমবেশি এক ঘন্টা তিরিশ মিনিটের মঞ্চ কাপানো পরিবেশনায় দুর্গাপুরের হাজার হাজার মানুষের মন জয় করে নিলেন পালক মুচ্ছাল। শিল্পী পালক মুচ্ছালের এর অনুষ্ঠানের অনেক আগে থেকেই দুর্গাপুরের সংগীত প্রেমী মানুষের বিশাল ভিড় জমে যায় দুর্গাপুর উৎসব মঞ্চের চারিদিকে। একটি সূত্র মারফত জানা গেছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পালাক মুচ্ছালের অনুষ্ঠান দেখতে হাজির হয়েছিলেন। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে ট্রাফিক বিভাগ ও দুর্গাপুর থানার পুলিশের বৈজ্ঞানিক ‘ক্লাউড কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্টের’ ফলে প্রায় ১৫ হাজার দুর্গাপুরের মানুষের শান্তিপূর্ণ জমায়েত হয়েছিল চিত্রালয় মেলা ময়দানে। সাধারণ দুর্গাপুরের বাসিন্দারা ঠান্ডা কে উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে সমগ্র অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে উপভোগ করেনে। এবছর দুর্গাপুর উৎসবের মূল মঞ্চের জন্য তৈরি করা হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক মানের হ্যাঙ্গা এর ভেতরে। ওই হ্যাঙ্গার এনক্লোজারের নাকি সর্বোচ্চ ৩০০০ মানুষের বসার সুব্যবস্থা ছিল।

একটি সূত্র মারফত জানা গেছে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ কে সফল রূপদান দেওয়ার জন্য দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পেশা, ধর্ম, কর্ম, নির্বিশেষে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের কষ্ট অর্জিত আর্থিক অনুদান, নিঃশর্ত সেবা-পরিষেবা প্রদান ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কমিটির উদ্যোক্তাদের। দুর্গাপুর শহর প্রেমী সেই সব মানুষের নিঃস্বার্থ মনোভাব কে সম্মান জানাতে তাদেরকে নাকি দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ এর অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে ‘ভি আই পি পাস’ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাদের জন্যই নাকি একমাত্র ওই আন্তর্জাতিক মানের হ্যাঙ্গারে বসার সুব্যবস্থা ও সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই দিন অনুষ্ঠানের শুরু হওয়ার প্রায় চার ঘন্টা আগে থেকেই দুর্গাপুরের সংগীত প্রেমী মানুষের বিশাল ভিড় জমে গিয়েছিল উৎসব মঞ্চের চারিপাশে। দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কমিটির কড়া মনোভাবের ফলে শুধুমাত্র ‘ভিআইপি পাস’ বহনকারী ব্যক্তিদের কেই উৎসব মঞ্চের দর্শক আসনে বসার প্রবেশ অধিকার দিয়েছিলেন।
দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে উৎসব শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ দিন আগেই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবার দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ মূল মঞ্চ ও তার আশেপাশের এলাকা সুরক্ষিত রাখা হবে ও শুধুমাত্র প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশ অধিকার পাবেন। বিখ্যাত টলিউড ও বলিউডের চিত্র তারকা ও সংগীত শিল্পীদের নিরাপত্তা বিষয়ক কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। সুত্র মারফত এও জানা গেছে যেসব বিখ্যাত সংগীত শিল্পীরা দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ এ তাদের অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে আসছেন তাদের সঙ্গে বেশ কিছু সংস্থার ‘কপিরাইট’ চুক্তিবদ্ধ থাকার ফলে তারা পরিষ্কারভাবে উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেন, তাদের এদিনর পরিবেশিত অনুষ্ঠান কোনভাবেই সম্প্রচার করা যাবে না নির্দিষ্ট উক্ত ওই কপিরাইট সংস্থার অনুমতি ছাড়া।
ঠিক এরপরেই দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কমিটির উদ্যোক্তারা সংবাদ মাধ্যম ও ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতা চান। বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক সংস্থার নির্ধারিত সকল বাধা নিষেধ কে মান্যতা দিয়ে ‘বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশন’ এর সকল সদস্যকে অনুরোধ জানাই নির্দিষ্ট কপিরাইট সংস্থা গুলির কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পরেই যেন তারা অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচার করেন। এবং কোনভাবেই সদস্যরা যেন মূলমঞ্চের আশেপাশে প্রবেশ না করেন বলে অনুরোধ জানান ফাউন্ডেশন এর সভাপতি। অবশেষে গত সোমবার দুর্গাপুরের বুকে আরেকটি ইতিহাস তৈরি হল শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর মানুষের জামায়াতে চিত্রালয় মেলা ময়দানে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ এ।
অন্যদিকে গত সোমবারের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকটি তথাকথিত ফেসবুক পেজ গুলিতে দুর্গাপুর উৎসব সংক্রান্ত বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর, কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্য প্রণীত মন্তব্যে পাওয়া যায়। কিছু পোস্টে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ডিজিটাল মিডিয়া কর্মী বলে নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছেন বা সংবাদ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। সারা রাজ্যজুড়ে কর্মকাণ্ড প্রসারিত বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সাধারণ দুর্গাপুর বাসী তথা রাজ্যবাসীর কাছে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ সংক্রান্ত যে সব বিভ্রান্তিকর, কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্য প্রণীত মন্তব্যে করা হচ্ছে তারা কেউ তাদের সদস্য বা কর্মী নন। ওইসব কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্য প্রণীত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের তীব্র ভাষাই নিন্দা করেন বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশন এর সভাপতি । তিনি আশা করেন, দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ও দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কর্মকর্তারা, দুর্গাপুরের গৌরবময় দুর্গাপুর উৎসবের বিরুদ্ধে যারা কুরুচিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা ফেসবুক পোস্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এমন বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচার চলল ফেসবুকে। ঘটনার অন্তর তদন্ত করে জানা যায় দুর্গাপুরের অলিতে গলিতে, দোকান, বিয়ে বাড়ি, হোটেল, রেস্তোরা ও বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রচার এর জন্য শিল্পাঞ্চলের বেশ কিছু ফেসবুক পেজ ও তাদের কর্মকর্তারা ব্যবসার সাথে যুক্ত। বাণিজ্যিক প্রচার ও প্রসার করে নিজেদের জীবিকা অর্জন করেন। তাদের মধ্যেই বেশ কয়েকজন নাকি বলপূর্বক দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কমিটির সুরক্ষিত মূল মঞ্চ এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। সেখানে থাকা স্বেচ্ছাসেবকেরা তাদেরকে মূল মঞ্চের আশেপাশে যেতে বাধা দেন। এর পরেই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। এখানে উল্লেখ করা ভালো যে দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত রয়েছে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও ‘বেঙ্গল ডিজিটাল মিডিয়া ফাউন্ডেশন এর প্রায় শতাধিক সংবাদ কর্মী। তারা যখন সবাই দুর্গাপুরের সম্মান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক সংস্থার সকল বাধা নিষেধ মেনে নিয়েছিলেন। তাহলে কেন ওইসব বাণিজ্যিক ফেসবুক পেজের কর্মকর্তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরন ও বিভ্রান্তিকর,কুরুচিপূর্ণ, উদ্দেশ্য প্রণীত মন্তব্যে করলেন? কারা সেই সব নিম্ন মানসিকতার মানুষের ? কার অঙ্গুলি হিলনে উক্ত ওই ফেসবুক পেজ গুলি দুর্গাপুর উৎসবের গৌরবময় ইতিহাসকে কালিমা লিপ্ত করবার অপপ্রচেষ্টা চালায়?
এদিকে নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ আয়োজক কমিটির এক সদস্য জানান, “আজকাল সবাই একটি স্মার্টফোন নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন ডিজিটাল মিডিয়া পরিচয় দিয়ে। যদি উৎসব মঞ্চের সামনে ডিজিটাল মিডিয়ার নাম করে আসা ওইসব স্মার্টফোন মোবাইল ধারী ব্যক্তিদের প্রবেশের অধিকার দেওয়া হয় তাহলে সাধারণ দর্শকের আসনও হয়তো ভরে যাবে। কারণ এখন সবাই নিজের মোবাইল থেকে ভিডিও করে ফেসবুকে রিল বা স্টোরি আকারে প্রচার করেন। গত সোমবারের অনুষ্ঠান সম্পর্কে বেশ কিছু ফেসবুক পেজে চেয়ার ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে বসতে দেওয়া হয়নি বলে এক মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল। এখানে পরিষ্কার বলে রাখা ভালো যাদের জন্য সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল দুর্গাপুর উৎসবের উক্ত ওই আসন গুলি, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই তা সব ভরে গিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।”

তিনি আরো অভিযোগ করেন, “সেই দিন দুর্গাপুর উৎসব প্রাঙ্গণে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জামায়াত হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ তাদের মোবাইল ফোনে অনুষ্ঠানের ভিডিওগ্রাফি করেছেন। কিন্তু কোন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে কোথাও কোন অভিযোগের ভিডিও প্রকাশ পায়নি। তাহলে কেন অনুষ্ঠানের প্রায় ২৪ ঘন্টা পরে ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে কয়েকজন মুষ্টিমেয় ব্যক্তির দ্বারা দুর্গাপুর উৎসব সম্বন্ধে কুরুচিকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য সম্প্রচার করা হলো? ইতিমধ্যেই আমরা বেশ কয়েকজনের নাম ও পরিচয় জানতে পেরেছি যারা উদ্দেশ্য প্রণণিত ভাবে দুর্গাপুর উৎসবকে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যথা সময়ে।”

গতকাল মঙ্গলবার স্বনামধন্য গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য ও বুধবার দুর্গাপুর উৎসবের মূল মঞ্চে দুর্দান্ত সংগীত পরিবেশন করেন ক্যাকটাস নামের বিখ্যাত ব্র্যান্ড। এই দুই দিনেও দুর্গাপুর উৎসব মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। নাচে গানে ভরে ওঠে দুর্গাপুর উৎসব প্রাঙ্গণ। দুর্গাপুর উৎসব ২০২৫ একটি আনন্দমুখর মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ দিনে এখনো অবধি এমন কোন বিশৃঙ্খলা বা পরিকল্পনা হীন কোন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠেনি।



















