সৌভিক সিকদার, মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান- : মঙ্গলকোটের সরুলিয়ার বেসরকারি ‘সত্যনারায়ণ হিমঘর’ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই সেবামূলক কাজ চালিয়ে এলাকার মানুষের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন। বারবার এলাকার দুস্থদের পাশে থেকেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটলনা।
রাজ্যে কার্যত চলছে শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তাপমাত্রা ১০ ° সে. এর নীচে নেমে গেলেও আর্থিক কারণে অনেকের কাছে শীত নিবারণের জন্য লেপ বা কম্বল নাই। বড্ড দুর্দশার মধ্যে তাদের দিন কাটছে। এবার এইসব অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন হিমঘর কর্তৃপক্ষ। পারিবারিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সত্য সুষমা’-র সক্রিয় সহযোগিতায় সাড়ে তিন শতাধিক দুস্থ মানুষের হাতে উপহার হিসাবে তুলে দেওয়া হলো ব্ল্যাঙ্কেট। প্রচন্ড ঠান্ডার সময় এগুলি পেয়ে বাসিন্দারা খুব খুশি। পাশাপাশি বরাবরের মত স্থানীয় দুস্থ ক্ষুদে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া পেন ও পেনসিল। প্রসঙ্গত হিমঘর কর্তৃপক্ষ এলাকায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজে নিজেদের নিযুক্ত রেখেছে এবং আপদে বিপদে সর্বদাই মানুষের পাশে থাকে।
এগুলি উপহার দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন হিমঘরের কর্ণধার সুব্রত কোনার সহ তার পরিবারের সদস্য সুষমা, অর্চনা ও সায়নী এবং হিমঘরের সমস্ত কর্মচারী ও হিমঘরের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
পড়াশোনার কারণে আমেরিকায় থাকার জন্য এতদিন শুধু পরিবারের সেবামূলক কাজের কথা শুনেছেন সায়নী। সেটা চাক্ষুষ করার জন্য সুযোগ পেয়েই তিনি চলে এসেছেন। হাসিমুখে কয়েকজনের হাতে ব্ল্যাঙ্কেটও তুলে দেন। বিনিময়ে তাদের আশীর্বাদ লাভ করেন।
সায়নী বললেন, যতই আমেরিকায় থাকি না আমি তো এখানকার বাসিন্দা। এখানে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়ে খুব গর্ব হচ্ছে। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও থাকার চেষ্টা করব এবং পরিবারের এই ঐতিহ্য বজায় রাখব।
সুব্রতবাবু বললেন, ব্যবসা নিজের জায়গায় থাকবে। সেখানে লাভ-ক্ষতিও থাকবে। কিন্তু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে যদি দাঁড়াতে না পারি কি লাভ মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করে? চেষ্টা করি এলাকার মানুষের পাশে থাকতে।


















