সংবাদদাতা,আসানসোল,দুর্গাপুর,বাঁকুড়াঃ- সোমবার এসআইআর-এর ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় অশান্তির ছবি উঠে এল। আর এই নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা উঠল চরমে।
দুর্গাপুরঃ- এদিন এসআইআর ফর্ম ৭ জমা নিয়ে দুর্গাপুরে এসডিও অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপির কর্মী প্রতিনিধিরা ফর্ম নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে ফর্ম জমা দিতে পৌঁছলে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। এরপরই তাদের মারধর করা হয়েছে এই অভিযোগে সিটিসেন্টারের ডিভিসি মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। অবরোধের জেরে যান চলাচল থমকে যায়। খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যায় নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অবশেষে পুলিশ বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই সহ বিজেপি কর্মীদের আটক করে নিয়ে যায়।

বিজেপির জেলা নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কর্মীরা ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিল। তখনই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা লাঠি নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।” যদিও তৃণমূলের জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকারের পাল্টা দাবি, “বৈধ ভোটারদের নাম দিয়ে বিজেপির কর্মীরা ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিল। সেই জন্যই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। আমরা কাউকে মারিনি।”
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত করছে বিজেপি। এই অভিযোগে দুর্গাপুরে মহকুমাশাসকের অফিসে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা।

একই অভিযোগে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভে সামিল হয় বামেরাও। বাম নেতৃত্বর অভিযোগ, বিজেপি মনোনীত নির্বাচন কমিশন এসআইআরের নামে সমস্যায় ফেলছে সাধারণ মানুষকে। একজন বাবার পাঁচ ছয় জন ছেলে হলে সেই নাম কেটে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের জোর করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা বেরোনোর পর যদি একটাও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সবমিলিয়ে ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার দিনভর উত্তপ্ত থাকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী।
আসানসোলঃ- দুর্গাপুরের পাশাপাশি আসানসোল শিল্পাঞ্চলেও এসআইআর ৭ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন সকালে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ফাইল বন্দি ফর্ম নিয়ে আসানসোলের এস ডি ও অফিসে হাজির হলে তৃণমূলের কর্মীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ধস্তাধস্তি বেধে যায়। এমনকি তৃণমূল কর্মীরা তাদের ফর্ম জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে বিজেপি। এছাড়াও একটি কালো চার চাকা গাড়ি ঘিরে আন্দোলন শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। তারা অভিযোগ করে ওই কালো গাড়িতে প্রচুর ফর্ম রয়েছে। পরে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামুরিয়া বিডিও অফিসেও এদিন ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে এখানেও দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় ক্রমে যা ছোটখাট সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় দু’পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের নালিশ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জামুড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বাঁকুড়াঃ- তবে এদিন বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকে একেবারেই ভিন্ন ছবি ধরা পড়ে। এদিন ব্লকের শুনানিতে যারা উপস্থিত হন, তাঁদের জলের বোতল ও ছাতনার বিখ্যাত পেড়া দিয়ে আপ্যায়ন করতে দেখা যায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা বঙ্কিম মিশ্রকে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে, অনুব্রত মণ্ডলের ‘বাতাসা রাজনীতি’র ছায়া কি এবার ছাতনা ব্লক অফিস চত্বরে? অন্যদিকে এদিন পুরো ব্লক অফিস বিজেপির কারো দেখা না মেলায় তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেকেরই প্রশ্ন তবে কি এদিন তৃণমূলের দখলে ছিল পুরো ব্লক অফিস চত্বর?
যদিও এর আগে গত ১৫ তারিখ ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন ঘোষণা হতেই ছাতনা ব্লকে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বঙ্কিম মিশ্র বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালান।
প্রসঙ্গত এসআইআরে ফর্ম ৭ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। এই ফর্ম হল সেই আবেদনপত্র, যার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। এক জন ভোটার ইচ্ছা মতো যত বার খুশি অন্য যে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। আইন অনুযায়ী এর কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই।



















