নীহারিকা মুখার্জ্জী চ্যাটার্জ্জী, জয়পুর, বাঁকুড়া-: মন্দির শহর বিষ্ণুপুর এবং মা সারদা ও রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের স্মৃতিধন্য কামারপুকুর ও জয়রামবাটি সহ পার্শ্ববর্তী নানান দর্শনীয় স্থানের টানে ভ্রমণপিপাসু মানুষ বারবার ছুটে আসেন বাঁকুড়ায়। ওদিকে একরাশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে পর্যটকদের জন্য আছে অরণ্য সুন্দরী বাঁকুড়ার জয়পুর। বনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় চকিতে দু’একটা হরিণ দেখা যেতে পারে। দেখলে পর্যটকদের মন ভরে যাবে। আছে পিকনিক করার জায়গা। প্রচারের আলোয় এসে যাওয়ায় জায়গাটির গুরুত্বও বেড়ে গেছে। জয়পুর ও তার আশেপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। একের পর এক পর্যটকরা ছুটে আসেন জয়পুরে।
পর্যটকদের সুবিধার্থে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একাধিক হোটেল, রিসর্ট ও রেস্টুরেন্ট। জয়পুরের এমনই একটি বেসরকারি রিসর্ট হলো ‘বনফুল’ যেখানে প্রকৃত অর্থেই পাওয়া যাবে ফুলের সৌন্দর্য।
জয়পর থানা ও বিডিও অফিস সংলগ্ন এই রিসর্টের আকর্ষণীয় অঙ্গ হলো ট্রি হাউস ও ব্যাম্বু হাউস। বাঁকুড়ার প্রাণের ছোঁয়ার স্পর্শ সেখানে পাওয়া যাবে। স্বল্প পরিসরের মধ্যে গড়ে ওঠা এই রিসর্টের মধ্যে আছে সুইমিংপুল। ছোট ছোট ফুলের বাগানে দেখা যাবে রকমারি সব ফুল। ঘরোয়া পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে। ‘ক্যাম্প ফায়ার’ এর সুযোগ আছে। সমুদ্রবাঁধে নৌকাবিহারের আনন্দ উপভোগ করার ব্যবস্থা আছে। রিসর্ট কর্তৃপক্ষ পাশের জঙ্গলে পিকনিকের ব্যবস্থাও করে দেন। বছরের অন্য সময় তো বটেই শীতের সময় এখানে সাধারণ পর্যটক সহ ভিআইপিদের ভিড় লেগেই থাকে। যেসব শিল্পীরা আশেপাশে অনুষ্ঠান করতে আসেন কর্তৃপক্ষের ব্যবহারের জন্য তারাও বেছে নেন ‘বনফুল’-কে।
এখানকার কর্মীদের ব্যবহার অতুলনীয়। ফলে অনেকেই নিজেদের জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী সহ অন্যান্য পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এই রিসর্টে করে থাকেন। ইংরেজি ও বাংলা নববর্ষ, বড়দিন সহ নানান অনুষ্ঠানও এখানে আয়োজিত হয়ে থাকে। রঙের উৎসব দোলের সময় পাওয়া যায় শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া। কেবলমাত্র ব্যবসা নয়, নিজেদের ব্যবহারের মাধ্যমে ফুলের সৌন্দর্যের মত পরিষেবা দিয়ে থাকেন এখানকার প্রতিটি কর্মী। সবমিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে সবার মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে ‘বনফুল’ রিসর্ট।


















