নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- রাজ্যের প্রতি ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’-এর অভিযোগে লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতির কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার অর্থনৈতিক অবরোধ ও জনস্বার্থের ইস্যু। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে। কেন্দ্র সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মনরেগা (MGNREGA) এবং আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে, যার ফলে দরিদ্র শ্রমিক এবং গৃহহীন মানুষ চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।” পাশাপাশি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কলকারখানার বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্গাপুরের বন্ধ কারখানাগুলি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের পালসিটে জাতীয় সড়কের (NH-19) নবনির্মিত উড়ালপুলের গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ্য করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন তিনি। তিনি জানান যে, তৈরি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই উড়ালপুলের গার্ডওয়াল ভেঙে পড়েছে, যা সরাসরি দুর্নীতি এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ। ওই উড়ালপুল নির্মান সংস্থাকে অবিলম্বে ব্ল্যাক লিস্ট করা ও একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তৈরি করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে এলপিজি গ্যাস নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসে এদিন তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যে। তিনি প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী নিজে বলছেন দেশে কনোরকম ঘাটতি নেই, তাহলে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধি করা হল কেন?
পরিশেষে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি বাংলার মানুষের অধিকারের লড়াই জারি রাখবেন।



















