মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন, তারপরেই পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ হবে ২৯৪ জন বিধায়কের হাত ধরে। ইতিমধ্যেই সারা রাজ্য জুড়েই শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচার। কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি বহুদিন আগে থেকেই শিল্পাঞ্চলের আনাচে কানাচে পথসভা ও ফ্লেক্স,পোষ্টার লাগিয়ে জনসংযোগে নেমে পড়েছিলেন। কয়েক দিন আগেই ভারতীয় জনতা পার্টির পরিবর্তন যাত্রার দুর্গাপুরে আগমনকে কেন্দ্র করে সারা পশ্চিম বর্ধমান জেলা সহ শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর ঢাকা পড়ে গিয়েছিল বিজেপির ফ্লেক্স, পোস্টার ও দলীয় পতাকায়।

দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জোর কদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গাপুরের পূর্ব কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ও মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার আবার এবারও তার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। গতবার নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন এবং দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তার অবদান দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে তার নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তেমনভাবে প্রচারে নামতে দেখা যায়নি প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে। কিন্তু এদিন সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতাল থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য নির্বাচনী পদযাত্রা। পদযাত্রাটি শেষ হয় দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বি-জোনে অবস্থিত চন্ডীদাস বাজারে। মূলত দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের সমর্থনেই এদিন দুর্গাপুর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এই পথসভা ও পথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। জনপ্লাবনে উত্তাল ছিল স্টিল টাউনশিপের রাজপথ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত পদধ্বনি আর হৃদয়ের গভীর থেকে আসা আওয়াজ “জিতবে দুর্গাপুর, জিতবে বাংলা”স্লোগানে মুখরিত হয় ইস্পাত নগরীর আকাশ বাতাস। এই পদযাত্রায় শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থকরাই নয়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান, যা গোটা প্রচারকে নতুন মাত্রা দেয়। এদিন প্রদীপ মজুমদার জানান, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের জনগণের সহযোগিতা অনেক বেশি চোখে পড়ছে। এই বিপুল জনসমাগম তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিনের প্রচার অভিযানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের ভাগ্য কি হতে চলেছে।



















