eaibanglai
Homeএই বাংলায়আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক খুনের ঘটনায় ধৃত তিন, মারধরেই মৃত্যু দাবি পুলিশের

আসানসোলে কংগ্রেস সমর্থক খুনের ঘটনায় ধৃত তিন, মারধরেই মৃত্যু দাবি পুলিশের

সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- আসানসোলের সেনরেল রোডের নব অনন্যা কমপ্লেক্সের বাসিন্দা কংগ্রেস সমর্থক দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করল আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। গতকালই অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। আজ তিনজন অভিযুক্তকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হলে তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনের নাম মৃতের স্ত্রীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ ছিল। ধৃত দুই মুল অভিযুক্তের নাম শুভজিৎ মন্ডল ও রবিউল আলম। তাদের সাথে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ইতিমধ্যেই এই মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোল শহরে। গত ২৪ এপ্রিল রাতে হওয়া এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। তবে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোন যোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি পুলিশের। পাশাপাশি ধৃতদের সঙ্গে পুরনো কোন অপরাধের যোগ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ । যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ধৃতদের তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দেবদীপকে রাজনৈতিক কারণে খুন করা হয়েছে। শনিবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে আসানসোল দক্ষিণ থানার সামনে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভও দেখান আসানসোল উত্তর বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি ও দলীয় কর্মীরা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

খুনের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান থেকে মোটরবাইক করে সেনরেল রোডের নব অনন্যা,কমপ্লেক্সের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড়ে শুভজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বচসা হয়। এরপরে সেনরেল রোডে রেলের পাঁচমুখী পুল পার হওয়ার পরে আবারও রফিউল আলমের সঙ্গে দেবদীপের কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, সেই সময় রফিউল আলম তাকে মারধর করেন। পরে দেবদীপ নিজের বাড়ি নব অনন্যা কমপ্লেক্সে পৌঁছালে সেখানেও শুভজিৎ মণ্ডল, রফিউল আলম ও তার সঙ্গীরা পৌঁছয় ও তাকে মারধর করে। সিসিটিভি ফুটেজেও সেই মারধরের ঘটনা ধরা পড়েছে । সেই মারধরের পরে দেবদীপ অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় দেবদীপ ও অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

এই মারধরের পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মনে করেন তিনি নেশার কারণে অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন। যে কারণে পরিবারের তরফে সঙ্গে সঙ্গে তার কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরের দিন ২৫ এপ্রিল শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে অচৈতণ্য অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে এই খুনের ঘটনায় আবাসনের গেটের নিরাপত্তারক্ষীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গেটের সামনে মারধরের ঘটনা চললেও ওই নিরাপত্তারক্ষী গেট খোলেননি।

ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানান, ঠিক কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা খুজে বার করতে সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments