নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- গেরুয়া সুনামিতে উড়ে গেছে জোড়া ফুল। রাজ্যে এই পালা বদলের পর তৃণমূলের পতনের কার্য কারণ খুঁজতে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল। এদিকে এই পরাজয়ের পর দলের অন্তর্দ্বন্দ্বকে দায়ী করে মুখ খুলছেন তৃণমূলেরই অনেক নেতা-নেত্রী। এই প্রেক্ষিতে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন দুর্গাপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপিতা মানস রায়। তার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত তাকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
প্রথমে তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও, পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন মানসবাবু। তিনি জানান, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দলের ভেতরের পরিস্থিতি তার কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে হয়েছে। তার কথায়, “দলের জন্য এত কিছু করার পরও প্রয়োজনে পাশে কেউ দাঁড়ায়নি । বরং অপমান আর বঞ্চনাই পেয়েছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরের কিছু ব্যক্তি ও কর্মীদের দ্বারা তিনি বারবার হেনস্থার শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দলের হয়ে কাজ করতে গিয়ে তাকে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং এমনকি জেলেও যেতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মানস রায় এবং তার ছেলে অভ্রনীল রায় একটি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দামি মোবাইল ফোন কিনে টাকা না দেওয়া এবং আরও বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল পিতা পুত্রের বিরুদ্ধে।
দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মানসবাবু। তার দলত্যাগে দুর্গাপুর শহরে, বিশেষ করে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তৃণমূলের সংগঠনকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই।


















