সঙ্গীতা চৌধুরী, হুগলিঃ-গতকাল হুগলির নালিকুলের সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরে অমাবস্যার যজ্ঞানুষ্ঠান ছিল। প্রত্যেক অমাবস্যায় মায়ের মন্দিরে এই অমাবস্যার যজ্ঞানুষ্ঠান হয় আগতভক্ত বৃন্দের কল্যাণার্থে ও মঙ্গলকামনা করে। এই দিনের অমাবস্যার যজ্ঞ ও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে রাজ্যের সরকার পরিবর্তনের পর এই যজ্ঞে আগত ভক্তবৃন্দদের পাশাপাশি সকল রাজ্যবাসীর শান্তি কামনায় ও রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি কামনায় এইদিন বিশ্ব শান্তি যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শেওড়াফুলি বৈদ্যবাটি শাখার সম্পাদক অর্ঘ্য রায় মহাশয় উপস্থিত থেকে নিজে আহুতি প্রদান করে যজ্ঞ সম্পন্ন করেন।
এই বিশ্বশান্তি যজ্ঞ তিনজনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। যজ্ঞ করেন, মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পন্ডিত শিবানন্দপুরী, মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী ও স্বরূপ ব্যানার্জী।
মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী প্রধান পুরোহিতের অনুমতিক্রমে এক এক করে ভক্তবৃন্দদের ডেকে নেন যজ্ঞস্থলে মায়ের উদ্দেশ্যে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে আহুতি দিয়ে মায়ের কাছে শান্তি ও মঙ্গলময় প্রার্থনা করার জন্য। অন্যান্য ভক্তবৃন্দের সঙ্গে অর্ঘ্য রায় ও সেই একই ক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, নালিকুলের সিদ্ধেশ্বরী মায়ের এই মন্দিরে মায়ের গাত্র বর্ণ সবুজ। বৈষ্ণব ও শাক্ত মন্ত্রের মধ্যে সমস্ত বিভেদ ও বিরোধকে ঘুছিয়ে মায়ের দেহে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও ভগবতী কালী একত্রে লীন হয়েছে , অর্থাৎ মা সিদ্ধেশ্বরীর বিগ্রহে কৃষ্ণ ও কালীর সম্মিলিত শক্তি রয়েছে, তাই মা সবুজ বর্ণ ধারণ করেছেন।
এইদিন বিশ্ব শান্তি যজ্ঞ সম্পর্কে মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী বলেন, “আমরা প্রত্যেকটা অমাবস্যার পুজো করি সকলের মঙ্গলার্থে, তবে নতুন সরকার আসার পর বিশ্বশান্তি কামনায় এই যজ্ঞ করা হয়েছে রাজ্যবাসীর মঙ্গলার্থে আর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অর্ঘ্য রায়ের উপস্থিতি এই যজ্ঞকে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব শান্তি যজ্ঞে পরিণত করেছে। আমরা সমাজবদ্ধ জীব তাই আমরা সকলেই যেন ভালো থাকি- এটাই আমাদের মায়ের কাছে চাওয়া।”
এই প্রসঙ্গে অর্ঘ্য রায় বলেন, আমি তো পন্ডিত শিবানন্দপুরীর কাছে মাতৃ মন্ত্রে দীক্ষিত, তাই প্রত্যেক অমাবস্যাতেই এখানে আসি, তবে এবারের যজ্ঞটা একটু অন্যরকম। বিশ্ব শান্তির যজ্ঞে উপস্থিত থাকতে পেরে আমার ভালো লাগছে।


















