eaibanglai
Homeএই বাংলায়হাফ প্যান্ট পরিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হল ধৃত তৃণমূল নেতাদের

হাফ প্যান্ট পরিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হল ধৃত তৃণমূল নেতাদের

সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- ফলতার জাহাঙ্গীর খানের ছায়া এবার আসানসোলে। কোথাও ধৃত তৃণমূল নেতাকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে হাঁটানো হলো তো কোথায় ধৃত নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

গত বৃহস্পতিবার একটি পাথর খাদান সংক্রান্ত মামলায় সালানপুর থানার পুলিশ এক সময়ের দাপুটে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বিজয় সিং ওরফে ভোলা সিংকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রূপনারায়ণপুরবাসী। সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ ভোলা সিংকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রূপনারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে সবজি বাজার পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায়। এই অবস্থায় তৃণমূল নেতাকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতার একাংশের মধ্য থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে শুরু করে। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার আসানসোলের বার্নপুর শহরও সাক্ষী থাকল একই ধরনের ঘটনার। এদিন সকালে ধৃত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সৈয়দ ইকবালকে তার কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের হিরাপুর থানার পুলিশ। বার্নপুরের সুভাষ পল্লী থেকে রহমত নগর মোড় পর্যন্ত তাকে ঘোরানো হয়। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশের এই কাজে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ধৃত তৃণমূল নেতাকে দেখতে রাস্তায় ভিড় জমে যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবিবার রাতে বার্নপুরের বাসিন্দা সৈয়দ ইকবালকে প্রতারণা এবং অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিলো হিরাপুর থানার পুলিশ। সোমবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তার জামিন নাকচ করে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে ধৃত তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্যে কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরানোর এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সামাজিক পরিমণ্ডল ও রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই একটি বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে , পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন কোনো অভিযুক্তকে এভাবে রাস্তায় হাঁটানো বা ‘রোড শো’ করানো কি আদৌও আইনসম্মত?

যদিও পুলিশের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা বাবন মণ্ডল এবং সালানপুর মণ্ডল-৪ এর সভাপতি চিন্ময় তেওয়ারি প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, তৃণমূলের রাজত্বকালে এই সব নেতাদের অত্যাচারের সীমা ছিল না। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। পুলিশ এদিন যা করেছে, অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে। এই ঘটনার পর কেউ নতুন করে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করার সাহস পাবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments