নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- বাজারে কৃত্রিমভাবে চিনির দাম বাড়ানো এবং কালোবাজারি রুখতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের বেনাচিতির শালবাগান এলাকার একটি চিনির গোডাউনে যৌথ অভিযান চালাল দুর্গাপুর মহকুমা প্রশাসন ও দুর্গাপুর পুরসভা।
সাধারণ মানুষের ওপর যাতে বাড়তি বাজারদরের চাপ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই আকস্মিক হানা বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনী। এছাড়াও ছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার। অভিযান চলাকালীন গোডাউনে মজুত চিনির পরিমাণ, বর্তমান বাজারদর এবং বিক্রির সামগ্রিক প্রক্রিয়া খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, চিনির অবৈধ মজুতদারি রুখতে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক। সেই চিঠিতে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত বাজারদরের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবেও অভিযান চালাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কনফেকশনারি, সফট ড্রিঙ্কস প্রস্তুতকারক, বড় মিষ্টির দোকান ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থার মতো যেসব বড় ব্যবসায়ীদের বেশি পরিমাণ চিনির প্রয়োজন হয়, তারা একটানা ১৫ দিনের বেশি ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবেন না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ন্যূনতম তিন মাসের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার মতো কঠোর আইনি শাস্তির বিধান রয়েছে। উৎসবের মরশুমের মুখে কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।