নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের এক ম্যানেজারের হাতে এক সাংবাদিকের আক্রান্ত ও নিগৃহীত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অম্বুজা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, ‘মেঘমল্লার’ নামের ওই বাড়িটি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় এবং একাধিকবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও বাড়ি খালি না করায়, শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার সেটি দখলে নিতে পৌঁছয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অকুস্থলে হাজির ছিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ বাহিনী এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
এই ঘটনার খবর পেয়ে পেশাগত তাগিদেই সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে পৌঁছন একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক কাঞ্চন দাস। অভিযোগ, তিনি যখন নিজের কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময় আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ভিড়িঙ্গী শাখার ম্যানেজার কুনাল দাস। আক্রান্ত সাংবাদিকের দাবি, ওই ব্যাংক ম্যানেজার তাঁকে প্রকাশ্যেই ধাক্কা মারেন, শারীরিক নিগ্রহ করেন এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। বাধা দিলে মোবাইল ফোনটি ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ বাহিনীর সামনেই এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের উপস্থিতিতে একজন কর্তব্যরত সাংবাদিকের ওপর এই ধরনের হামলায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা একযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— পুলিশের সামনেই যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা বজায় থাকবে কীভাবে?