মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- গত ৬ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের একাধিক প্রাক্তন সভাপতি সহ দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সদস্যরা। জানানো হয় আপাতত দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের(৩০৯৯৫) সমস্ত কাজকর্ম 'স্ট্যাটাস কো'(যথা-অবস্থা বা স্থিতাবস্থা)-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ অবধি। বিভিন্ন মহল থেকে জানার চেষ্টা করা হয় এই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের অচল অবস্থার পেছনে মূল কারণ কি?
কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরের সুনাম,ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথ চলা কে কালিমা লিপ্ত করে কি চলছে ক্ষমতা দখলের লড়াই ?
চ্যানেল 'এই বাংলায়' নিজ উদ্যোগে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী একাধিক দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে এক অন্তরতদন্ত শুরু করে। 'চ্যানেল এই বাংলায়'এর অন্তরতদন্ত থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের কাছ থেকে অনুমোদন (চার্টার) পায় দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব (৩০৯৯৫)। সেই সময় কম বেশি নাকি প্রায় ৪২ জন সদস্য ছিলেন এই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবে। দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের এখনো অবধি ১৪০ জনের কাছাকাছি সদস্য রয়েছেন। কিন্তু হঠাৎই ১১/০৯/২০০০ সালে তখনকার কিছু সদস্যদেরকে নিয়ে নতুন করে একটি ট্রাস্ট তৈরি করা হয় এবং তার নাম দেওয়া হয় 'দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট'। সম্প্রতি বছর দুয়েক আগে কেনা একটি ১৫ কাঠা জমিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসে 'দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব'ও 'দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট'এর গন্ডগোল ও বিতর্কের মূল কারণের প্রতিচ্ছবি।
দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব,গত ৩১/৭/১৯৯০ সালে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩৩(তেত্রিশ) বছরের জন্য ইস্পাত নগরীর ভেতরে একটি লিজ জমির অনুমোদন পায়। জমির পরিমাণ কমবেশি ০.২৫ একর মত ছিল বলে জানা যায়। গত ৩০/০৭/২০২৩ সালে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব পরিচালন কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন যে ৩৩ বৎসর লিজের মেয়াদকাল অতিক্রমের পর তাদেরকে আবার নতুন করে নবীনকরণ করাতে হবে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা তেত্রিশ বছরের লিজ দেওয়া জমির বর্তমান জমির দর যাচাই করে নাকি একটি মোটা অংকের টাকা, ফি হিসেবে জমা দিতে জানিয়ে ছিলেন দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। কিন্তু জানা গেছে, দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব পরিচালন সমিতি এখনো পর্যন্ত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষকে জমি বাবদ নতুন করে নবিনিকরণ করার জন্য কোন টাকা বা তথ্য দেয়নি। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার দেওয়া যে জমিতে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ও তার ভবন সহ হাসপাতাল বিরাজমান, সেই জায়গার কোন বৈধ নথি আপাতত দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে নেই বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বছর দুয়েক আগে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব পরিচালন সমিতির কয়েকজন মুখ্য সদস্য নাকি একটি আবাসিক বৃদ্ধাশ্রম করার জন্য প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা খরচা করে ১৫ কাটা জমি কেনেন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল লাগুয়া এলাকায়। উক্ত ঐ জমিটি সরাসরি দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের নামে মিউটেশন করানো হয়, দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের নামে নয়। কিছু সদস্যের অভিযোগ তারপর থেকেই গন্ডগোল বাদে দুই সংস্থার সদস্যদের মধ্যে। উল্লেখ করে রাখা ভালো উক্ত ওই জমিটি কেনার সময় যে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বোর্ড রেজুলেশন হয়েছিল তাতে নাকি স্বাক্ষর করেছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব দুর্গাপুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বেশ কয়েকজন সদস্য বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
একটি পক্ষের অভিযোগ নিম্নমানের জমি উচ্চ দরে কেনা হয়েছে। অপরদিকে অন্য পক্ষের অভিযোগ জমিটি ক্লাবের টাকায় কেনা তাই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের নামে মিউটেশন করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তিদের নাকি নিজস্ব মালিকাধীন ট্রাস্টের নামে জমি না করার ফলে তাদেরই একাংশ অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬ আরও জানানো হয়েছিল যে,যদি ৩০ সেপ্টেম্বর,২০২৬ বা তার আগে সদস্যদের সদস্যপদ পুনর্বহাল এবং ক্লাবের নির্বাচনের আয়োজন করতে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকে,তবে ক্লাবের এই অনুমোদন(চার্টার) বাতিল করা হবে। তাই, ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাব জোরালো ভাবে সুপারিশ করে যে ক্লাবটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, যাতে ক্লাবটি পুনরায় ভালো অবস্থানে ফিরে আসতে পারে এবং নিজ সম্প্রদায়ের সেবা অব্যাহত রাখতে পারে।
কিন্তু হঠাৎ করে গত ২৭ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে লায়ন্স ক্লাব ওফ দুর্গাপুরের নামাঙ্কিত সিলমোহর ও সভাপতির পরিচয় দিয়ে জনৈক্য সুমের চাঁদ শর্মা নামক এক ব্যক্তি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী থানা ফরিদপুর পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জকে একটি অভিযোগ জানান ও এফ আই আর করতে অনুরোধ করেন ওই ক্লাবেরই পাঁচ সদস্যদের বিরুদ্ধে।
ওই অভিযোগ পত্রে জানানো হয়, "লায়ন্স ক্লাব ওফ দুর্গাপুরের বর্ষ ২০২৪-২৫-এ তৎকালীন সভাপতি হিমাল দত্তের মেয়াদকালের শেষ পর্যায়ে, এবং তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৭-৮ দিন আগে, তিনি ক্লাবের তৎকালীন আরও চারজন পদাধিকারী রঞ্জিত চৌধুরী (সম্পাদক), আশিস ঘোষ (কোষাধ্যক্ষ), বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় (অব্যবহিত পূর্ববর্তী সভাপতি) এবং অনুপ মজুমদার (প্রাক্তন সভাপতি)—এর সাথে যৌথভাবে ২৩ জুন ২০২৫ তারিখে ক্লাবের তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে এবং দৃশ্যত ক্লাবের পক্ষেই প্রায় ৫৬,৩৩,৫৫৮ টাকা মূল্যে এক খণ্ড জমি ক্রয় করেন। কোনো যথাযথ পরিকল্পনা বা বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন সহ এই ক্রয়ের বিষয়টি কখনোই আর্থিক অনুমোদনের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে যখন প্রস্তাবটি পর্ষদ সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল, তখন পর্ষদ কর্তৃক তা যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়নি। এই পাঁচজন ব্যক্তি বোর্ড বা সাধারণ সদস্যদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই, এ কাজের জন্য কোনো কমিটি গঠন না করেই এবং ক্লাবের পক্ষে কাজ করার জন্য কোনো স্বাক্ষরকারীকে ক্ষমতা প্রদান না করেই নিজেরাই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছিলেন। জমিটি এর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি ভাবে অনুমোদিত মূল্যায়নে দেখা যায় যে, জমিটির ন্যায্য বাজারমূল্য ছিল মাত্র ১১,১৪,০০০ টাকার মতো, অথচ এতে ব্যয় দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৬,৩৩,৫৫৮ টাকা—যার ফলে বিশাল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ এক পার্থক্য থেকে যায়। জমিটি নিচু ও জলাভূমি-সদৃশ এবং কোনো ধরনের নির্মাণের জন্য অনুপযুক্ত। এটি গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত বেস হাসপাতাল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এবং সেখানে যাতায়াতের জন্য কোনো উপযুক্ত সড়ক ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, জমিটির ঠিক ওপর দিয়ে ৩৩,০০০ ভোল্টের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে, যার নিচে আইন অনুযায়ী কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। জমিটি কেনার আগে এই পাঁচজন ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ পরিষদের বা বোর্ডের অন্য কোনো সদস্য কখনোই সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেননি। জমিটির বিক্রয় দলিলটি সম্পাদিত হওয়ার বেশ কয়েক মাস পর ক্লাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং উপরে উল্লিখিত পাঁচজন ব্যক্তি এই বিলম্বের কোনো যথাযথ ব্যাখ্যা দেননি।"
"লায়ন্স ক্লাব ওফ দুর্গাপুরের নামাঙ্কিত সিলমোহর ও সভাপতির পরিচয় দিয়ে জনৈক্য সুমের চাঁদ শর্মা নামক ওই ব্যক্তি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন, উপরোক্ত ঘটনা ও পরিস্থিতির আলোকে এই থানা যেন এই অভিযোগ পত্রটিকে 'ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট'(FIR) হিসেবে গণ্য করে,উপরে উল্লিখিত অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করে, এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যার মধ্যে ক্লাবের আত্মসাৎকৃত প্রায় ৫৬,৩৩,৫৫৮/- টাকা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে উপযুক্ত মনে হলে অন্য কোনো প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করে।"
ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের বোর্ড পলিসি নিজস্ব ম্যানুয়ালের 'স্ট্যাটাস কো' (Status quo) হলে কোনো লায়ন্স ক্লাবের অনুমোদন (charter), অধিকার, বিশেষ সুবিধা এবং দায়বদ্ধতা সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার একটি প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের (International Board of Directors) পক্ষে কাজ করার সময়, নির্বাহী প্রশাসক এবং তাঁর দ্বারা নির্ধারিত বিভাগগুলোর কোনো লায়ন্স ক্লাবকে 'স্ট্যাটাস কো'-এর আওতায় আনার বা তা থেকে মুক্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। 'স্ট্যাটাস কো'-এর উদ্দেশ্য হলো—যে ক্লাবটি একটি অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্লাবের দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করছে না, তার কার্যক্রম বন্ধ রাখা। এবং এই ব্যবস্থাটি ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকে যতক্ষণ না 'স্ট্যাটাস কো'-তে রাখার কারণটি নিরসন হয় অথবা ক্লাবটির অনুমোদন বাতিল করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের বোর্ড পলিসি নিজস্ব ম্যানুয়ালের পঞ্চম অধ্যায়ের 'সি' (C) সেকশনের ১ নম্বর উপ-ধারা অনুযায়ী, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের(৩০৯৯৫) সমস্ত কাজকর্ম 'স্ট্যাটাস কো' (যথা-অবস্থা বা স্থিতাবস্থা)-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছিল এই স্থগিতাবস্থায় থাকাকালীন ক্লাবটি নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
(১) সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা
(২) তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করা
(৩) ডিস্ট্রিক্ট,মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো অনুষ্ঠান বা সেমিনারে অংশগ্রহণ করা
(৪) ক্লাবের বাইরে কোনো ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা
(৫) ডিস্ট্রিক্ট, মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো পদের জন্য প্রার্থীকে সমর্থন বা মনোনয়ন দেওয়া
(৬) আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির মাধ্যমে সদস্যপদ বা সেবা কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করা (যেমন—মাসিক সদস্যপদ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রতিবেদন ফর্ম জমা দেওয়া)
(৭) কোনো লায়ন্স ক্লাবের স্পন্সর হওয়া বা লিও ক্লাব গঠন করা।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সিলমোহর ও সভাপতির পরিচয় ব্যবহার করে, কি করে জনৈক্য সুমের চাঁদ শর্মা পুলিশ আধিকারিক এর কাছে ক্লাবের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর বা অভিযোগ দায়ার করতে পারেন 'স্ট্যাটাস কো' (Status quo) চলাকালীন ?
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে ফরিদপুর পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারী 'কি করে বা কোন অবস্থায়, কার মধ্যস্থতায়,ও কার কথায় প্রভাবিত হয়ে উক্ত ওই এফআইআরটি রুজু করেতে বাধ্য' হলেন ?
উল্লেখ্য ইন্টারন্যাশনাল বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী "লায়ন্স ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা একজন লায়ন-এর মর্যাদাহানিকর আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। লায়ন্স ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয় সমাধানের জন্য কোনো সদস্যই আইনি মামলা দায়ের করতে পারেন না।" এর আগেও দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের এক সদস্যকে নাকি ইন্টারন্যাশনাল লাইন্স ক্লাবের অনুমোদন ও নিজস্ব নিয়মাবলী ভঙ্গ করে একটি কোট কেস করার ফলে আজীবন লায়ন্স ক্লাবের সদস্য তালিকা থেকে লায়ন শঙ্কর গুপ্তের নাম বাদ দেওয়ার আদেশ জারি হয়েছিল অক্টোবর মাসের ২০২১ সালে। এবং সেই সময় মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব থেকে বরখাস্ত করা হয় ওই উক্ত ব্যক্তিকে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি ইন্টারন্যাশনাল লায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব নিয়মাবলী ভঙ্গ করে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে 'স্ট্যাটাস কো' (Status quo) চলাকালীন দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সিলমোহর ও সভাপতির পরিচয় ব্যবহার করে অভিযোগ করার ফলে কি জনৈক্য সুমের চাঁদ শর্মার বিরুদ্ধেও কি একই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইন্টারন্যাশনাল লায়েন্স ক্লাব ?