eaibanglai
Homeএই বাংলায়চিপ থেকে চাকরি, ইস্পাত নগরী থেকে প্রযুক্তি নগরী, দুর্গাপুরের সামনে নতুন অধ্যায়ের...

চিপ থেকে চাকরি, ইস্পাত নগরী থেকে প্রযুক্তি নগরী, দুর্গাপুরের সামনে নতুন অধ্যায়ের হাতছানি

মনোজ সিংহঃ- দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিল্প বিনিয়োগের প্রতীক্ষায় থাকা দুর্গাপুরের সামনে এবার খুলে যেতে পারে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। রাজ্য বাজেটে দুর্গাপুরে সেমি কন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই শিল্পমহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বহুদিন পর শিল্পনগরীকে ঘিরে ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোগী এবং সাধারণ মানুষ।

একসময় ইস্পাত, কয়লা ও ভারী শিল্পের ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছিল দুর্গাপুরের অর্থনীতি। কিন্তু শিল্পের গতি শ্লথ হওয়া এবং একাধিক সংস্থার কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ভাটা পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে সেমি কন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাব্য আগমনকে অনেকেই “গেম চেঞ্জার” হিসেবে দেখছেন।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শিল্পের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত সেমি কন্ডাক্টর। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, প্রায় সব আধুনিক প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্র এই চিপ। ফলে দুর্গাপুরে এই শিল্প স্থাপিত হলে শুধু একটি কারখানা নয়, তার চারপাশে গড়ে উঠতে পারে একটি বৃহৎ প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প বাস্তুতন্ত্র।

রাজ্য সরকারের ঘোষণায় শুধু সেমি কন্ডাক্টর ইউনিট নয়, একটি শিল্প ক্লাস্টার তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কেন্দ্রের পরিকল্পিত ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর যুক্ত হলে দুর্গাপুর পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমি কন্ডাক্টর শিল্পের হাত ধরে ইলেকট্রনিক্স, ডেটা সেন্টার, ব্যাটারি প্রযুক্তি, অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট এবং হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের বহু সংস্থা এই অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের বিকাশে।

শুধু দুর্গাপুর নয়, অণ্ডাল, পানাগড়, রানিগঞ্জ, পাণ্ডবেশ্বর থেকে শুরু করে গোটা পশ্চিম বর্ধমান শিল্পাঞ্চল এই প্রকল্পের সুফল পেতে পারে। উন্নত রাস্তা, পরিবহণ ব্যবস্থা, আবাসন, শিক্ষা ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা, শিল্পের সঙ্গে যেন কর্মসংস্থানের সুযোগও আসে এলাকার যুবসমাজের জন্য। বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী আজও কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। নতুন শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই চিত্র বদলাতে পারে বলেই আশাবাদী তাঁরা।

বণিক ও শিল্প মহলের প্রতিনিধিদের মতে, এই ঘোষণা বাস্তবে রূপ পেলে দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেরও নতুন বাজার তৈরি হবে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে পরিবহণ, সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একসময় দেশের শিল্প বিকাশের প্রতীক ছিল দুর্গাপুর। সময়ের স্রোতে সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের হাত ধরে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন নজর প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে। কারণ কাগজের পরিকল্পনা বাস্তবের মাটিতে নামলেই শিল্পনগরীর নতুন ইতিহাস লেখা শুরু হবে।

দুর্গাপুরের মানুষ তাই এখন অপেক্ষায়, ইস্পাতের শহর কি এবার চিপ প্রযুক্তির শহর হিসেবে নতুন পরিচয় পেতে চলেছে? সময়ে তার উত্তর মিলবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments