সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- প্রোডাক্ট-বেসড কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা খোয়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়। মল খোলা এবং ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে একটি সংস্থা রাতারাতি চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ। পুজোর আগে থেকেই সংস্থার কর্ণধারদের ফোন বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে মঙ্গলবার আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিত বিনিয়োগকারীরা।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, প্রথম প্রায় এক বছর চার মাস ধরে সংস্থাটি স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম চালিয়েছিল এবং আমানতকারীদের সময়মতো রিটার্নও দিচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রূপনারায়ণপুর এবং কলকাতায় শপিং মল খোলা ও ফ্ল্যাটের ব্যবসা সম্প্রসারণের নাম করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দফায় দফায় আরও বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। এরপরই হঠাৎ কলকাতা ও রূপনারায়ণপুরে সংস্থার অফিস দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের দাবি, স্থানীয় যুবক সন্দীপ বাউড়ির মাধ্যমে তাঁরা এই সংস্থায় টাকা রাখতে উৎসাহিত হয়েছিলেন। সন্দীপের বাড়ি পুরুলিয়ার সাঁওতাল মোড় গ্রামে। অভিযোগকারীরা জানান, সন্দীপের স্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্মী এবং সাকতোরিয়া ফাঁড়িতে কর্মরত বলে তাদের জানানো হয়েছিল। ওই পরিচয়ের ওপর ভরসা করেই সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছিল, প্রোডাক্ট বিক্রির কমিশনের পাশাপাশি ঋদ্ধি-সিদ্ধি কনস্ট্রাকশন ও স্মৃতি গ্রুপের মতো একাধিক সংস্থায় বিনিয়োগের লভ্যাংশ থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
অভিযোগকারীদের দাবি এই প্রতারণাচক্রের জাল শুধু আসানসোলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তা ছড়িয়ে ছিল মেদিনীপুর, পুরুলিয়ার নিতুরিয়া ও রঘুনাথপুর, বাঁকুড়া, সালতোড়া, এবং প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, ধানবাদ, জামতাড়া, বোকারো, দুমকা ও দেওঘর পর্যন্ত।
গত ১৫ দিন ধরে সংস্থার সমস্ত কর্তারা বেপাত্তা থাকায় আজ পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিতরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাঁদের সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং সাধারণ মানুষের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করুক পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।