সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- রানীগঞ্জের নিমচা ফাঁড়ি এলাকার জেকে নগর কোলিয়ারি সংলগ্ন আবাসন থেকে এক মহিলার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রাথমিক পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুলিশের অনুমান, ওই মহিলার ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিমচা ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ডাক্তার প্রণব কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস, এসিপি (সেন্ট্রাল-২) বিমান কুমার মৃধা, রানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর পার্থ ঘোষ এবং নিমচা ফাঁড়ির আইসি নাসরিন সুলতানা সহ পুলিশের এক উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ওই মহিলা দীর্ঘ দিন ধরে স্বামী-বিচ্ছিন্না। তিনি জেকে নগর কোলিয়ারি সংলগ্ন বালকো কোম্পানির একটি আবাসে একা বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে-মেয়েরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলার বাড়ির দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের ভেতরে উঁকি দিতেই দেখা যায়, সমস্ত সামগ্রী চারিদিকে লণ্ডভণ্ড ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে এবং মহিলা মেঝেতে বিধ্বস্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
আকস্মিক এই মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, এর পেছনে কোনো পুরনো শত্রুতা বা চুরির উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে। সত্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করেছেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।