সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- এক ব্যক্তিকে মারধর করে খুনের অভিযোগ ঘিরে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার খটনগর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম সুজয় রং (৪৫)। মৃতের ভাইয়ের দাবি তিনি বিজেপি করায় তার দাদাকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি মদের আসরে ঝামেলার জেরে ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোন যোগ নেই। বিজেপি বিধায়কের উদ্যোগে ইন্দায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৃত সুজয়ের ভাই প্রসাদ রং জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুজয় ডিম কিনতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময়ই তাঁর উপর হামলা চালান স্থানীয় দুই তৃণমূলকর্মী নয়ন এবং পিন্টু রায়। তাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। ঘটনাটি নজরে আসতেই ছুটে যান স্থানীয়রা। এদিকে বেগতিক বুঝে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় নয়ন এবং পিন্টু। অন্যদিকে গুরুতর জখম সুজয়কে উদ্ধার করে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়া এবং পরিবারের লোকেদের থানায় নিয়ে যান। পরিবারের তরফে পিন্টু সহ তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতি বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মৃতের ভাই প্রসাদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করি। সেই কারণে আমাকে ও আমার দাদাকে বারে বারে হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূল। আমাকে বাগে না-পেয়ে দাদাকে রাস্তায় ফেলে খুন করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা।”
যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোন যোগ নেই বলে দাবি করেছে। ইন্দাসের তৃণমূল ব্লক সভাপতি,শেখ হামিদ তৃণমূল সংযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যে কোন মৃত্যুই দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোন সংযোগ নেই। ওই সময় এলাকায় একটি মদের আসর চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুজয় রং, পিন্টু রায় সহ আরও কয়েকজন। মদ্যপ অবস্থায় কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সুজয় রং ও পিন্টু রায়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। সেই সময় পিন্টু রায় সুজয় রংকে সিমেন্টের ঢালাই করা রাস্তায় তুলে আছাড় মারেন ও তার মৃত্যু হয়। বিজেপি বিধায়ক এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছেন। সারা বছর কোন কাজ না করে এখন এই মৃত্যুর রাজনীতি করে তিনি আগামী বিধানসভায় আবারও জিতবেন ভাবছেন। কিন্তু মানুষ সব সত্য জানে।”
অন্যদিকে বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়ার দাবি , রাজনৈতিক কারণেই খুন হতে হয়েছে সুজয়কে। শুধু পিন্টু নয়, অন্য অভিযুক্তের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন তিনি। শীঘ্র অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে জানা গেছে, অভিযুক্ত পিন্টু রায়ের স্ত্রী বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, ২০১৮ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন।

















