সংবাদদাতা,বর্ধমানঃ- ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকেছে ঐতিহাসিক গুপ্ত কুঠি, ভেঙে পড়ছে বাড়ির অবশিষ্টাংশ। দ্রুত সংস্কার না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই মাটিতে মিশে যেতে পারে বাংলা সাহিত্যের এই অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর নাম মহাকবি কাশীরাম দাস। সংস্কৃত ভাষায় রচিত মহাভারতকে যিনি সহজ-সরল বাংলা পদ্যে রূপান্তরিত করে বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁরই স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটে আজ চরম অবহেলার শিকার। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া-২ ব্লকের সিঙ্গি গ্রামে অবস্থিত কবির জন্মভিটের বাড়ির অবশিষ্টাংশ ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। ঝোপ-জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে গোটা চত্বর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবিলম্বে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এই ঐতিহাসিক সম্পদ।
স্থানীয়দের দাবি, এই জন্মভিটের গুপ্ত কুঠিতে বসেই কাশীরাম দাস সংস্কৃত মহাভারতকে বাংলা কাব্যে রূপান্তরিত করেছিলেন। অথচ সেই ঐতিহাসিক কুঠিটিও আজ ধ্বংসের মুখে। সিঙ্গি গ্রামের সনাতনী বাসিন্দাদের আক্ষেপ, দীর্ঘদিন ধরে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমল পেরিয়ে গেলেও কবির জন্মভিটে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংরক্ষণের কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে হেরিটেজ ঘোষণা করে জন্মভিটেটি সংস্কার করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের মানুষও এই ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের সুযোগ পান।
সম্প্রতি সিঙ্গি গ্রামে গিয়ে জন্মভিটের দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেন বাংলার মঠ-মন্দির বাঁচাও কমিটির সভাপতি গৌর ঘোষ। ভগ্নপ্রায় বাড়ি ও ঝোপ-জঙ্গলে ঢাকা গুপ্ত কুঠির অবস্থা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। গৌরবাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে কলকাতায় গিয়ে কার্তিক মহারাজের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি, জন্মভিটেটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হবে। তাঁর কথায়, মহাকবি কাশীরাম দাস শুধু কাটোয়া বা পূর্ব বর্ধমানের সম্পদ নন, তিনি সমগ্র বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির গর্ব।
অন্যদিকে, জন্মভিটার পাশের বাড়ির বাসিন্দা প্রভাত কুমার চৌধুরীর অভিযোগ, একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও কবির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটির সংরক্ষণে কেউ উদ্যোগী হননি। বর্তমান সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, দ্রুত জন্মভিটেটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক।
বাংলা মহাভারতের স্রষ্টার স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থান কি এবার অবহেলার অন্ধকার থেকে মুক্তি পাবে? নাকি প্রশাসনিক উদাসীনতায় চিরতরে হারিয়ে যাবে বাংলার সাহিত্য-ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায়? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে সিঙ্গির বাসিন্দাদের মনে।