এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে সিট গঠন রাজ্যের, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ

By Eaibanglai - October 22, 2026
— Advertisement —
Advertisement
চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে সিট গঠন রাজ্যের, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ-   কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার, ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই SIT গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে তদন্তকারী দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারের কাছে।

গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পিছনে ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল, কীভাবে ভিড়ের চাপ তৈরি হল এবং কোথায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে SIT। ভিড়ের পরিমাণ, প্রবেশ ও বেরনোর পথ, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, ব্যারিকেড, সিঁড়ি এবং মণ্ডপের পরিকাঠামোও তদন্তের আওতায় থাকবে।

রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, তদন্তকারী দলে থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের STF-এর ডিজি-আইজিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-এর একজন প্রতিনিধি। 

দুর্ঘটনার সময় আয়োজক, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, CCTV ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

মণ্ডপে পুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখবে দল। পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল-সহ সংশ্লিষ্ট কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলা কিংবা সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না, তা চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে SIT।

দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে দেওয়া আর্থিক সাহায্য, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে। ভবিষ্যতে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় বড় দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিয়েও সুপারিশ করবে তদন্তকারী দল। প্রবেশ ও নির্গমন পথ, CCTV নজরদারি, ঘোষণার ব্যবস্থা, জরুরি অবস্থায় উদ্ধার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে SIT রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আধিকারিকদের সাহায্য চাইতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। নির্দেশ জারির তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement