সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- সালানপুরের রূপনারায়ণপুরের বিডিও অফিস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী 'ঘোষপুকুর'-এ সারি সারি মরা মাছ ভেসে ওঠার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষ পরিবারের দাবি, এই বিপর্যয়ে তাঁদের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই মাছ মৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক অভিযোগ উঠেছ, যেমন-নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা, জলাশয় দূষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি।
রূপনারায়ণপুর বাজার সংলগ্ন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি নিকাশি নালা রয়েছে। স্থানীয় আবাসন থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমস্ত নোংরা জল এই নালা দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘোষ পরিবারের অভিযোগ, নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই দূষিত নোংরা জল উপচে ঢুকে পড়েছে তাঁদের পুকুরে। যার বিষক্রিয়াতেই একের পর এক মাছের মৃত্যু হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও দূষণের কবলে বেহাল অবস্থা জলাশয়ের। প্লাস্টিকের স্তূপ জমেছে পুকুরপাড়ে। অবাধে ফেলা পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও গৃহস্থালির বর্জ্যে ভরে উঠেছে গোটা পুকুর। অভিযোগ, একসময় যে জলাশয় ছিল এলাকার জলকষ্ট মেটানোর ভরসা, আজ তা প্রশাসনের উদাসীনতা ও সচেতনতার অভাবে বিপজ্জনক দূষণের মুখে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, নিজেদের পুকুরে নিজের টাকায় মাছ চাষ করেও এলাকার নিকাশি নালার নোংরা জল ও দূষণ ও প্রশাসনিক উদাসিনতার মাশুল দিতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে ঘোষপুকুরের এই মাছের মরকের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রাও। মাছ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে অবিলম্বে জলের রাসায়নিক পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে 'স্বচ্ছ ভারত' বা 'নির্মল বাংলা'র মতো কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও দূষণের এই চিত্র উঠে আসায় প্রকল্পের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।