এই বাংলায়

এডিডিএ-র আধিকারিকের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যপালকে নালিশ, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আশ্বাস

By Eaibanglai - June 29, 2019
— Advertisement —
Advertisement

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ এডিডিএ-র ভূমি দফতরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বেআইনিভাবে দখলদারির গুরুতর অভিযোগ। ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অভিযোগকারী ইতিমধ্যে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন। জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ জানার পর অবিলম্বে ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যপালের ডেপুটি সেক্রেটারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনা সুত্রপাত হল দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারে ৮০-র দশক থেকে এডিডিএ-র পক্ষ থেকে দুর্গাপুরবাসীকে স্থায়ী বসবাসযোগ্য জমি লিজ মারফৎ দেওয়া শুরু করে। সেই সূত্রে এক ব্যক্তি নাম-সুকেশ চন্দ্র বোস, পিতা-খগেশ চন্দ্র বোস একটি বসবাস যোগ্য জমি পান লিজ ডিড নং-৮২৭/১২/০২/১৯৮৮ মারফৎ। তিনি যে জায়গাটি পেয়ছিলেন তার লে আউট প্লট নং ছিল-সি/১০, এ কে বি, বসন্তবিহার নন কোম্পানি হাউসিং, সিটি সেন্টার। এই জমিটির মূল পরিমাণ ছিল ৩ কাঠা তথা ২১৬০ স্কয়ার ফিট। যার জে/এল নং-৭৪, তৌজিক নং-৩৭৩২, খতিয়ান নং-৭০৫, পি/এস ও সাবডিভিশন-দুর্গাপুর। এই প্লটটি পাওয়ার পর তিনি তার ওপর একটি বসত বাড়ি নির্মান করেন বসবাস করার জন্য। অভিযোগকারী তার অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, এই সুকেশ চন্দ্র বোস বেআইনীভাবে এডিডিএ-র আইন-কানুন ভেঙে ১৫/০৪/১৯৯৩ সালে একটি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি করে জনৈক শ্রী অজিত কুমার চ্যাটার্জী এবং শ্রীমতি অনিতা চ্যাটার্জি এক দম্পতিকে হস্তান্তর করে দেয়। যা এডিডিএ-র সম্পত্তি আইন অনুসারে সম্পূর্ন বেআইনি। যদিও ওই বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স এবং জলের বিল ও অন্যান্য বিভিন্ন সরকারি নথিতে বাড়ির পূর্বতন মালিক সুকেশ চন্দ্র বোস এর নামই থেকে যায়। ১৯৯৩ সাল থেকে অজিত কুমার চ্যাটার্জী এবং অনিতা চ্যাটার্জি বেআইনিভাবে ওই জমিটি ভোগদখল করছেন। অভিযোগকারী আরও জানান, দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর পর এডিডিএ-র এক ডিলিং ক্লার্ক যার নাম অতনু মুখার্জী হঠাৎ করে বেআইনিভাবে উক্ত বাড়ি এবং জমিটি ভোগ দখল করা শুরু করে। যা সম্পূর্ণ রূপে বেআইনি এবং এর জন্য এডিডিও আর্থিক দিক থেকে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সুকেশ চন্দ্র বোসের নামে দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ০৩/০৩/২০১৬ সালের জলের বিলের রেকর্ড রয়েছে ও ডিএমসি-র হোন্ডিং ট্যাক্স রিসিট, তারিখ-১৬/১১/২০১৬ সালের রিসিটেও সুকেশ চন্দ্র বোসের নামই রয়েছে। অভিযোগকারী তার অভিযোগে জানিয়েছেন, এডিডিএ-র এক প্রকল্প “আমার বাড়ি স্কিম”-এ বহু বছর আগে শ্রী অতনু মুখার্জী তার স্ত্রীর নামে বিধাননগরে একটি বাড়ি/জমি পান। যা তিনি পরে এক চিকিৎসককে কমবেশি ৩৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন যে, শ্রী অতনু মুখার্জী উক্ত সিটিসেন্টারের সি/১০, এ কে বি, বসন্তবিহার নন কোম্পানি হাউসিংয়ের ওই প্লটটিতে পুরনো বসত বাড়িটি সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে নতুন করে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। অথচ আসল জমির মালিক শ্রী সুকেশ চন্দ্র বোস গত ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ। স্বভাবতই অভিযোগকারীর প্রশ্ন, সুকেশ চন্দ্র বোসের কোনও উত্তরাধিকারী নেই। তাহলে কী করে ওই বিল্ডিং প্ল্যানটি পুরসভা থেকে অনুমোদন পেল এবং এখনও পর্যন্ত জল এবং হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা কে বা কারা সুকেশ চন্দ্র বোসের নামে আজও জমা দিয়ে চলেছেন পুরসভাতে? অভিযোগকারীর সরাসরি এই পুরো ঘটনার পিছনে অতনু মুখার্জী এবং তার কয়েকজন সহকর্মী তথা দুর্গাপুরের কয়েকটি জমি মাফিয়ার যোগ সাজসের কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ একটি সরকারি বসবাসযোগ্য জমি পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে সেখানে শ্রী অতনু মুখার্জী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা দুর্গাপুরের বুকে অনেকগুলি জমি ও বাড়ির বেআইনিভাবে হস্তান্তর করেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রয়োজন হলে এই এক ডজনের উপর এই ধরণের জমি কেলেঙ্কারির তথ্য তিনি তুলে ধরতে সাহায্য করবেন এডিডিএ কর্তৃপক্ষকে। চ্যানেল এই বাংলায়-র কাছে অভিযোগ পত্রটি আসার পর আমরা সরাসরি যোগাযোগ করি দুর্গাপুরের এক বেসরকারি সমাজসেবী সংস্থা “অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি করাপশন অরগানাইজেশন”-র আধিকারিক সুব্রত মল্লিকের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন এ ডি ডি এ-র বর্তমানে আধিকারিকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতি করে চলেছেন। এই বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তিনি অভিযুক্ত অতনু মুখার্জির নামে সরাসরি রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানান। সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন, রাজ্যপালের তরফে উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ডি ডি এ-র বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সুব্রত বাবু জানিয়েছেন, বর্তমানে এ ডি ডি এ দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। সরকারি নজরদারির অভাবে এ ডি ডি এ-র অভ্যন্তরে দুর্নীতি বাসা বেধেছে। ফলস্বরূপ দিনের পর দিন যেমন সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি যে সমস্ত মানুষের এ ডি ডি এ-র এই সমস্ত প্রকল্প সত্যিই প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রাপ্য থেকে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি শহরবাসীকেউ এহেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সুব্রত মল্লিক। শহর জুড়ে এই সমস্ত দুর্নীতি যাতে নজর এড়িয়ে না যায় সেই কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনরকম দুর্নীতি বা অভিযোগ জানাতে হলে শহরবাসী যেন সরাসরি ” অল ইন্ডিয়া anti-corruption অর্গানাইজেশন” নামক তাদের সংস্থার কাছে যোগাযোগ করেন। সংস্থার আধিকারিক সুব্রত মল্লিকের ফোন নম্বর ৭৭৯৭৫৪৫০৫৫ তারই অনুমতিতে শহরবাসীর জন্য দেওয়া হল। চ্যানেল এই বাংলায় এই পুরো সংবাদটি অভিযোগকারীর অভিযোগপত্র থেকে সরাসরি নিয়েছে। তাই এর সত্যতা বিচারের অধিকার বা দায় কোনটাই আমাদের নেই। সবশেষে আমরা যোগাযোগ করি, গোটা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অর্থাৎ মূল অভিযুক্ত শ্রী অতনু মুখার্জীর সঙ্গে। সমস্ত শোনার পর তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন সম্পূর্ণ বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যেই এডিডিএ-র কাছে জানিয়েও দিয়েছেন।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement