এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

থিমের চাকচিক্য দূরে সরিয়ে কোকওভেনের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে শতাব্দী প্রাচীন পুজোর বোধন রক্তদান শিবিরে

By Eaibanglai - October 16, 2026
— Advertisement —
Advertisement
থিমের চাকচিক্য দূরে সরিয়ে কোকওভেনের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে শতাব্দী প্রাচীন পুজোর বোধন রক্তদান শিবিরে

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- উৎসবের মরশুমে চারিদিকে যখন চোখধাঁধানো থিমের লড়াই আর আলোর রোশনাই, ঠিক তখনই এক টুকরো চিরাচরিত ঐতিহ্য আর নিখাদ মানবসেবার অনন্য নজির দেখা গেল শিল্পশহরের উপকণ্ঠে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের শতাব্দী প্রাচীন বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই শুধু ঢাকের বাদ্যি, সাবেকিয়ানা আর অঞ্জলি নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সমাজকল্যাণের গভীর অঙ্গীকার।

প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গা ষষ্ঠীর পুণ্য লগ্নে চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ঐতিহাসিক উঠোনেই আয়োজন করা হল এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই পুজো কয়েকশো বছরেরও বেশি পুরনো। জমিদারি আমল থেকে শুরু হওয়া এই পুজো আজও সমান নিষ্ঠা ও আচার মেনে পরিচালনা করে আসছেন পরিবারের চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের সদস্যরা। পুজোর আধুনিক থিমের কোনও চাকচিক্য এখানে নেই। আজও এখানে পুজো পান সাবেকি একচালা প্রতিমায়। 

মহাষষ্ঠীর সকাল থেকেই বাড়ির নাটমন্দিরে শুরু হয় মহতি রক্তদান যজ্ঞ। পরিবারের ছেলে-মেয়ে, বউমা, জামাই থেকে শুরু করে গোপীনাথপুর গ্রামের উৎসাহী যুবক-যুবতীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই শিবিরে অংশ নেন। এদিন প্রায় ৫০ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন। সংগৃহীত এই মহামূল্যবান রক্ত পরবর্তীতে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উৎসবের মরশুমে রক্তের সঙ্কট মেটানোর উদ্দেশ্যে।

এই প্রাচীন সাবেকিয়ানার মাঝেই চট্টোপাধ্যায় পরিবার প্রতি বছর এক আধুনিক ও মানবিক বার্তা দিয়ে আসছে। পরিবারের বর্তমান দুই সদস্য সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় জানান, "আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, মায়ের পুজো মানে শুধু নিজেদের আনন্দ বা উৎসব নয়, আসল পুজো হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মায়ের বোধনের পুণ্য লগ্নে আমাদের দেওয়া এক ফোঁটা রক্ত যদি কোনও মুমূর্ষু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে, তবে মায়ের এর চেয়ে বড় আরাধনা আর কিছু হতে পারে না। সেই আদর্শ মেনেই এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ।"

গোপীনাথপুর গ্রামের এই পুজো আজ শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, গোটা গ্রামের আবেগ হয়ে উঠেছে। অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে দশমীর সিঁদুর খেলা - সবেতেই গ্রামের সকলেই এক হয়ে যান।
 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement