এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

দুর্গাপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (পর্ব ১)

By Eaibanglai - August 16, 2026
— Advertisement —
Advertisement
দুর্গাপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (পর্ব ১)

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ-  পশ্চিমবঙ্গে গত ৪ঠা মে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন সরকার। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন দুর্নীতি ,সরকারি জমি দখল ও বিভিন্ন বিনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও আস্ত একটা পুকুর, কোথাও ডোবা বা কোথাও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অট্টালিকা ও ফ্ল্যাট বাড়ি। এমনই এক অভিযোগের তদন্ত শুরু হল এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে। সুত্র মারফত জানা গেছে, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বেনাচিতির সুপরিচিত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে নাকি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অধীনস্থ একটি আস্ত পুকুর ভরাট করে ও তৎসংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে পাঁচিল তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ।  

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিশিষ্ট আর টি আই অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত মল্লিক তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, মৌজা ফরিদপুর, জে.এল. নং ৭৪-এর অন্তর্গত ডিএসপি (DSP)-র নামে নথিভুক্ত পুকুর (আর.এস. দাগ নং ৭৮২, যা পরবর্তীতে এল.আর. দাগ নং ২৯১ ও ১৩১২-তে রূপান্তরিত) বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার কমিশনার ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাননীয় জেলাশাসককে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

সুব্রত মল্লিক তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, 
(১) ফরিদপুর মৌজার জে.এল. নং ৭৪-এর অন্তর্গত আর.এস. দাগ নং ৭৮১ (৪০.৭৫ শতাংশ) কৃষ্ণ লাল দে-র (পিতা: মৃত আনন্দ চরণ দে) নামে এবং আর.এস. দাগ নং ৭৮২ (২৯.৪৯ শতাংশ) একটি পুকুর হিসেবে ডিএসপি (দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট)-এর নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। জমির মোট পরিমাণ = ৭০.২৪ শতাংশ।

(২) ভূমি স্বত্ব রূপান্তরের সময়, বিএলআরও (BLRO) কর্মকর্তারা নাকি ব্যক্তিগত সুবিধাভোগীদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে প্লট নং ৭৮২ (পুকুর)-কে ৭৮১-এর সাথে একীভূত করে, এর রেকর্ড মুছে ফেলে এবং দুটি নতুন ভূমি স্বত্ব প্লট (২৯১ ও ১৩১২) তৈরি করে।

(৩) পরবর্তীকালে, কৃষ্ণ লাল দে একটি নিবন্ধিত দলিলের (দলিল নং ১-২৩০৬০৫৮৭৯/২০২৫) মাধ্যমে জমিটি নাকি নবেন্দু ঘোষের (পিতা নরেন্দ্রনাথ ঘোষ) নামে হস্তান্তর করেন। (খণ্ড ২৩০৬/২০২৫, পৃষ্ঠা ১১২০১১-১১২০২৭, তারিখ ১১.০৬.২০২৫, দুর্গাপুর রেজিস্ট্রি অফিস)।

(৪) কোনো যাতায়াতের পথ না থাকায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চলাচলের পথ তৈরির উদ্দেশ্যে রেকর্ডভুক্ত পুকুরটি (আর.এস. ৭৮২) নাকি বেআইনিভাবে ভরাট করছে, এর ফলে একটি সর্বজনীন জলাশয় ধ্বংস হয়েছে,  এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

(৫) পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন, ১৯৯৩ (ধারা ২০২,২০৪ ও ২২৩)-এর অধীনে, জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাট করা প্রতিরোধ করা এবং সেগুলোর সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দুর্গাপুর পৌর কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক কর্তব্য। পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ আইন,১৯৮৪-এর ১৭এ (17A) ধারা অনুযায়ী, ৫ কাঠার বেশি আয়তনের কোনো নথিভুক্ত পুকুর অনুমতি ছাড়া ভরাট করা যায় না।

(৬) পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ জলাশয় (ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা) আইন,২০০৫-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, জেলাশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বেআইনিভাবে ভরাট করা পুকুরগুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে। মাননীয় কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, পুকুর বেআইনিভাবে ভরাট করা একটি 'কগনিজ়েবল অফেন্স' (যে অপরাধে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে) এবং এটি বন্ধ করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে পুলিশের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

সুব্রত মল্লিক তার লিখিত অভিযোগে দুর্গাপুর পৌরসভার কমিশনার ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাননীয় জেলাশাসককে অবিলম্বে উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা করে,ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন যেঃ-   
(১) অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট স্থানটি পরিদর্শন করা হোক এবং আর.এস. প্লট নং ৭৮২ (ডিএসপি-র নথিভুক্ত পুকুর)-এ মাটি ভরাট বা জবরদখলের কাজ বন্ধ করা হোক। 
(২) বেসরকারি পক্ষের দ্বারা পরিচালিত বেআইনিভাবে ভরাটকরণের বিরুদ্ধে ভাঙা ও পুনরুদ্ধারের আদেশ জারি করা হোক।
(৩) দোষীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইন (Fisheries Act), জলাশয় সংক্রান্ত আইন (Water Bodies Act), পরিবেশ সুরক্ষা আইন (Environment Protection Act) এবং বিএনএস (BNS)-এর বিধান অনুযায়ী পুলিশের কাছে অভিযোগ বা এফআইআর (FIR) করা হোক।
(৪) সংশ্লিষ্ট সকল বেসরকারি পক্ষ (কৃষ্ণ লাল দে, নবেন্দু ঘোষ) এবং যে কর্মকর্তারা এই বেআইনি কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
(৫) পুকুরটি পুনরুদ্ধার এবং এলাকার অন্যান্য জলাশয় রক্ষার বিষয়ে জেলাশাসক ও জেলা মৎস্য আধিকারিকের সাথে সমন্বয় সাধন করা হোক।
(৬) এই বিষয়টি কেবল দুর্নীতি ও নথিপত্র কারচুপির সাথেই সম্পর্কিত নয়, বরং এটি পরিবেশ ও পৌর সংক্রান্ত আইনেরও গুরুতর লঙ্ঘন। তাই দুর্গাপুরের জনস্বার্থ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে জরুরি হস্তক্ষেপ করা হোক।

সুত্র মারফত জানা গেছে, এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নাকি নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে এই বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর পৌর নিগমের কমিশনার তার দপ্তরের আধিকারিকদের পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে আদেশ জারি করেছেন। অন্যদিকে সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন আগামী এক মাসের ভেতর যদি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন তাহলে তিনি মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন ন্যায্য বিচারের আশায়।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement