নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- স্যাংশনের আড়ালে অবৈধ নির্মাণ! দুর্গাপুরের এক নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপুরের বেনাচিতির নবপল্লীর একটি বহুতল অবাসন এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
অভিযোগ নকশায় ১৭টি ফ্ল্যাটের অনুমোদন থাকলেও জলাধারের উপর তৈরি হয়েছে আরও দু’টি ফ্ল্যাট। রয়েছে পার্কিংয়েরও সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে বহুবার প্রশাসন ও ডিএমসির দ্বারস্থ হয়েছে বহুতলের আবাসিকরা, কিন্তু তাদের অভিযোগ কোনও সুরাহা হয়নি। বরং দাবি ওই নির্মাণ সংস্থার একজন অংশীদার প্রদীপ মজুমদার প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আবাসিকরা ডিএমসিতে অভিযোগ জানাতে গেলেই তাঁদের চমকানো বা হুমকি দেওয়া হত।
আবাসিকরা জানান রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। তাই তারা নতুন করে অভিযোগ জানান ও ডিএমসির দ্বারস্থ হন। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত সোমবার ডিএমসির তরফে ওই আবাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ডিএমসির আধিকারিকদের একটি দল। তাঁরা আবাসনের নির্মাণ এবং পার্কিং এলাকা খতিয়ে দেখেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পিএসপি বিল্ডার্সের প্রদীপ মজুমদারের পাল্টা দাবি, "পাঁচ বছর আগে সবকিছু খতিয়ে দেখেই আবাসিকরা পজিশন নিয়েছিলেন। তখন অসুবিধা হল না কেন? এখন নতুন করে কেন অভিযোগ উঠছে? "
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেনাচিতির নতুন পল্লীতে ওই একই বিল্ডার্সের অন্য একটি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই প্রশাসনের সাহায্য় নিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অবৈধ নার্মাণ ভাঙান। এবার নতুন করে ওই বিল্ডার্সের অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিধায়ক বলেন, "তৃণমূলের আমলে বহু অবৈধ কাজ হয়েছে। তিন তলার অনুমোদন নিয়ে পাঁচতলা বহুতল তৈরি হয়েছে, রাস্তা আটকে নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক অভিযোগ আসছে। তবে এগুলো পার্টির বিষয় নয়। কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়াররা আছেন তাঁরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং অবৈধ কিছু হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু দুর্গাপুর নয় শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ সব জায়গায় এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বর্তমান বিজেপি সরকার কোন অন্যায় সহ্য করবে না। কোন প্রোমোটার কি বললো কি করল তাতে কিচ্ছু যাবে আসবে না।"
এখন সকলের নজর তদন্ত-রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টই বলে দেবে অভিযোগ কি নিছক বিরোধ, নাকি অনুমোদনের আড়ালে সত্যিই রয়েছে নিয়ম লঙ্ঘন?