এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- ভোটার তালিকা ও নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির সংঘাত এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদদের একটি বিশাল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাবকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার দিল্লির রাস্তায় রাজনৈতিক দলগুলির বিক্ষোভ মিছিল ও উত্তেজনার মধ্যেই বিরোধী সাংসদদের সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে আসে। দিনভর চলা তুমুল রাজনৈতিক চাপানউতোরের পর, সন্ধ্যায় একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস নোট প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধি দলের তরফ থেকে বৈঠকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। বিকেল ৪টে নাগাদ দিল্লি পুলিশের মাধ্যমেই কমিশন জানতে পারে যে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে ইচ্ছুক।
মূল জটিলতা তৈরি হয় প্রতিনিধি দলের আকার এবং বৈঠকের স্থান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কমিশন জানতে পারে, এই প্রতিনিধি দলে প্রায় ২৪০ জন সাংসদ রয়েছেন এবং তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দফতরে না এসে, সংসদ ভবন অ্যানেক্সে কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান।
কমিশন তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী যেকোনো রাজনৈতিক দল বা একাধিক দলের যৌথ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক সর্বদা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দফতরেই অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রোটোকল ভেঙে সংসদ ভবনে গিয়ে এত বড় একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ ‘অস্বাভাবিক’ বলে গণ্য করে তা গ্রহণে অসম্মতি জানায় কমিশন।
বৈঠক না হলেও বিরোধী সাংসদদের স্মারকলিপি যাতে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য কমিশনের তরফ থেকে একটি বিকল্প ও নজিরবিহীন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কমিশন জানায়, সেই মুহূর্তে ডিউটিতে থাকা তাদের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার আধিকারিককে সংসদ ভবন অ্যানেক্সে পাঠিয়ে স্মারকলিপিটি সংগ্রহ করা যেতে পারত। কমিশনের নিজস্ব বয়ান অনুযায়ী, এই ধরনের পদক্ষেপও হবে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। তবে কমিশনের দাবি, সাংসদেরা এই বিকল্প প্রস্তাবটিও গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হলেও কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনার দরজা কখনই বন্ধ করা হয়নি। যেকোনো রাজনৈতিক দল যেকোনো সময় সাক্ষাতের জন্য আবেদন জানাতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে আবেদন করা হলে, কমিশন তাদের কর্মসূচির উপযুক্ত সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে বৈঠকের দিন ও সময় নির্ধারণ করবে।