এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- সরকারি দপ্তরে গিয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় ফাইল পড়ে থাকা নতুন কোনও সমস্যা নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এক দপ্তরের ফাইল অন্য দপ্তরে গিয়ে আটকে থাকছে দীর্ঘদিন ধরে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় মতামত বা সম্মতির অভাবে। যে কারণে গতি হারাচ্ছে সরকারি প্রকল্পের কাজও। আর তাতেই ক্ষুব্ধ নবান্নের শীর্ষকর্তারা।
এবার সরকারি কাজে গতি আনতে এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ফাইল আটকে থাকার সমস্যা দূর করতে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এখন থেকে অন্য দপ্তর থেকে আসা চিঠি বা ফাইল সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বুধবার এবিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। সেখানে উল্লেখ হয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ফাইল আদানপ্রদান এবং প্রয়োজনীয় মতামত বা সম্মতি সমন্বয়ে জোর প্রত্যেক দপ্তরের সচিবদেরও নিয়মিত অমীমাংসিত ফাইলের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অন্য দপ্তর থেকে কোনও চিঠি বা ফাইল এলে তা সাধারণত সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি, যেসব ফাইল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে, তার উপর নজরদারি চালানোর জন্য প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক দপ্তরের সচিবদেরও নিয়মিত অমীমাংসিত ফাইলের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে হবে।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও ফাইলের সম্মতি অনুমতির বিষয় নির্দিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে, তা ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুত সমাধানের জন্য বিষয়টি মুখ্যসচিবের নজরে আনতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং প্রশাসনিক কাজে অযথা দেরি কমবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এক আধিকারিকের কথায়, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, কোনও এক দপ্তরের ফাইল অন্যদপ্তরের সামান্য কোনও অনুমতির অভাবে আটকে থাকে। আর তাতে থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। এই জটিলতা এড়িয়ে সরকারি কাজে গতি আনতেই এবার নয়া এই নির্দেশিকা। পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয় ম্যানুয়াল, ২০১৯ এবং সরকারি কাজ পরিচালনার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সমস্ত চিঠি ও ফাইলের নিষ্পত্তি করতে হবে।