সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- গনেশ চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখতে নেই। একথা আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। গত ২৬ ও ২৭ আগস্ট ছিল নষ্ট চন্দ্র। এই নষ্ট চন্দ্র দর্শন করলে ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন অভিশপ্ত হয়ে উঠবে! এখন আপনি ভুলক্রমে দর্শন করে ফেলেছেন? কী হবে উপায়? চলুন জেনে নিই!
আগে জানতে হবে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীর দিন অর্থাৎ ভগবান গণেশের জন্ম তিথির রাতে চন্দ্র কীভাবে নষ্ট হল? পুরাণ মতে এইদিন রাতে গণেশ খেলা করতে বেরিয়ে ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গী ছিল তাঁর বাহন ইঁদুর। তখন গণেশদেব দেখলেন খেলতে খেলতে হঠাৎ একটি সাপ সামনে এল। ইঁদুর সাপটি দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠলে গণেশ পড়ে গেলেন মাটিতে। এইভাবে মাটিতে পড়ার ফলে তাঁর কাছে থাকা সব মোদক ছড়িয়ে গেলো চারদিকে। গণেশদেব ব্যথা পেলেও তিনি আবার উঠে দাঁড়ালেন এবং সাপ টিকে কোমর বেঁধে নিলেন। ঠিক এই সময় চন্দ্রদেব গণেশকে পড়ে যেতে দেখে জোরে হেসে উঠলেন আর বললেন, হা হা! এত অদ্ভুত শরীর! মোটা পেট, ছোট বাহন—আর পড়ে গেলো। দেখতে কেমন কুৎসিত দেখাচ্ছে!- গণেশদেব তখন বুঝলেন চন্দ্রদেব অহং বশে তাঁকে উপহাস করছেন। এতে তিনি রেগে গিয়ে বললেন বললেন “হে চন্দ্র! তোমার মধ্যে অহংকার ভর করেছে। তুমি সাহায্য করার বদলে উপহাস করলে! আজ থেকে আমি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি, তুমি আর কারও চোখে ধরা পড়বে না, তোমার সৌন্দর্য লোপ পাবে, আর অন্ধকার ছড়িয়ে পড়বে।”এই কথা শুনে চন্দ্র ভয় পেয়ে গেলেন পৃথিবীও চাঁদ ছাড়া অন্ধকার হয়ে পড়ল। সব দেবতা মিলে তখন ভগবান গণেশের কাছে এসে প্রার্থনা করে বললেন— “হে বিনায়ক, চাঁদ না থাকলে প্রকৃতির সকল নিয়ম ভেঙে যাবে আর আলো-অন্ধকারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।” চন্দ্রও কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চাইলেন তখন গণেশদেব বলেন “আমি একবার অভিশাপ দিয়েছি, তাই তা পুরোপুরি ফিরিয়ে নিতে পারি না। তবে লাঘব করব। তুমি প্রতিদিন ধীরে ধীরে আকার পরিবর্তন করবে। মাসে একদিন তুমি সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে (অমাবস্যা)। মাসে একদিন তুমি পূর্ণ জ্যোতিষ্মান হবে (পূর্ণিমা)। এভাবেই তোমার আলো পৃথিবীতে থাকবে, কিন্তু অহংকার আর কখনও তোমার মধ্যে আসবে না। তবে আমার জন্মদিনে যে তোমাকে দর্শন করবে, সে অশুভ ফল পাবে, তার জীবনে মিথ্যা অপবাদ আসবে। যেন মানুষ আজীবন মনে রাখে তুমি একদিন অহং বশে উপহাস করেছিলে।”
কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণকেও স্যমন্তক মণি চুরির অপবাদ পেতে হয় নষ্ট চন্দ্রের কারণে। এর প্রতিকার কী?
শাস্ত্রে বলা আছে,যদি কেউ ভুলে এই দিনে চাঁদ দেখে ফেলে, তবে শ্রী গণেশ স্তোত্র পাঠ, শ্রীকৃষ্ণের স্যমন্তক মণি কাহিনী শুনলে বা পাঠ করলে অথবা সত্যনারায়ণ ব্রত নিষ্ঠাভরে পালন করলে অশুভ প্রভাব কমে যাবে। হরে কৃষ্ণ। রাধে রাধে।





