eaibanglai
Homeএই বাংলায়গুসকরায় অনুষ্ঠিত হলো 'যোগা' সচেতনতা শিবির

গুসকরায় অনুষ্ঠিত হলো ‘যোগা’ সচেতনতা শিবির

সৌভিক সিকদার, গুসকরা, পূর্ব বর্ধমান -: ‘যোগা’ অভ্যাস হলো সুস্থ থাকার এক প্রাচীন পদ্ধতি। প্রাচীন যুগে ‘যোগা’-র মাধ্যমে ভারতের মুনি-ঋষিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সুস্থ রেখেছিলেন। এর প্রকৃত অর্থ হলো ‘চেতনা’ এবং সাধারণ অর্থ ‘মিলন’। নিয়মিত যোগচর্চার মাধ্যমে অসুস্থ শরীর যেমন রোগমুক্ত ও সুস্থ হয়ে ওঠে তেমনি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মন শান্ত হতে থাকে।

‘যোগা’ কে সর্বজনীন এবং গুসকরা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট ‘যোগা’ প্রশিক্ষক সুতপা চ্যাটার্জ্জী ও সৌম্যজ্যোতি চ্যাটার্জ্জী পরিচালিত আউসগ্রামের ‘প্রণবানন্দ যোগা ইউথ সেন্টার’-এর উদ্যোগে গুসকরা বারোয়ারি তলায় আয়োজিত হয় দু’দিন ব্যাপী ‘যোগ সচেতনতা শিবির’। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন গুসকরা পৌরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখার্জ্জী ও গুসকরা বারোয়ারিতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। প্রচণ্ড ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে এই ‘যোগা’ সচেতনতা শিবিরে ৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের যোগ ব্যায়াম প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণায়াম ও মেডিটেশন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়াও মানুষের জীবনে যোগার উপকারিতা ও উপযোগিতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শিবিরে প্রাথমিক পড়ুয়াদের জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে রাজ্যস্তরে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাওয়া অদিতি মাঝিকে শিবিরের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। অদিতি চ্যাটার্জ্জী দম্পতির সুযোগ্য ছাত্রী। জানা যাচ্ছে, আগামী বছর এই শিবির তিন দিনের হবে এবং শেষ দিনে যোগা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রসঙ্গত, শিশু বয়স থেকেই সুতপা দেবীর যোগার প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। ‘যোগা’ বিষয়ে নিজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বাপের বাড়ি দুর্গাপুরে একটি যোগা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন। স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় স্বামী সৌম্যজ্যোতিও যোগার প্রশিক্ষণ নেন। অন্যদের যোগা সম্পর্কে উৎসাহিত করার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে চ্যাটার্জ্জী দম্পতি দীগনগরে একটি যোগা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন। এছাড়া গুসকরা সহ আরও একাধিক জায়গায় তারা যোগা প্রশিক্ষণ দেন। ইতিমধ্যে যোগা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। মুর্শিদাবাদের বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. হেমন্ত ভারতী বললেন, আমি নিয়মিত যোগ অভ্যাস করি এবং আমার রুগীদের যোগ অভ্যাস করার পরামর্শ দিই। সুতপা দেবী বললেন, আমাদের লক্ষ্য যোগা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা। যেভাবে যোগার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য যোগাকে বেছে নেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। চ্যাটার্জ্জী দম্পতির উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে পৌরসভার চেয়ারম্যান বললেন, এটা খুব ভাল প্রচেষ্টা এবং যুগোপযোগী। আশাকরি এরফলে আরও বহু মানুষ নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য যোগার প্রতি উৎসাহিত হবেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments